দক্ষিনাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিরূপ প্রভাব

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নব নির্মিত ২২৫ কেভী গ্রীড সাব-ষ্টেশন ট্রিপ করায় গতকাল রোববার দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে দিনভরই বিদ্যুৎ সংকটে চরম দুর্ভোগে পরেন সাধারন মানুষ। ভয়াবহ এ বিদ্যুৎ সংকটে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দক্ষিনাঞ্চলের অন্যান্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জরুরী অস্ত্রপচারসহ চিকিৎসা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বরিশালের কয়েকটি ওষুধ তৈরী প্রতিষ্ঠান এবং সুতাকল সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় দফায় দফায়। দিনভর বিদ্যুৎ সংকটে ঈদকে সামনে রেখে ঈদের বাজারে আরেক দফা বিপর্যয়ে নেমে আসে গতকাল। রোজা শুরুর পর থেকে কয়েক দফার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে এবার দক্ষিনাঞ্চলে ঈদ বাজার যথেষ্ঠ ম্লান হয়েছে। গত শণিবার থেকে অনুকূল আবহাওয়ায় ঈদ বাজারে কিছুটা গতি এলেও গতকাল দিনভর লাগাতার বিদ্যুৎ সংকটে পুনরায় ভাটির টান লাগে। তবে বিকেল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় সন্ধার দিকে স্থানীয় ক্রেতা সমাগমে বরিশালের বিপণী বিতানগুলো পুনরায় সরগরম হয়ে ওঠে।
গতকাল সকাল ৭টা থেকেই ৫মেগা ওয়াট লোডশেডিং দিয়ে বরিশালে বিদ্যুৎ ঘাটতির সূচনা হয়। সকাল ১০টার আগেই লোডশেডিং দশ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। কিন্তু সে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও সকাল ১১টা দশ মিনিটে বরিশালে নবনর্মিত ২২৫/১৩২ কেভী গ্রীড সাব-ষ্টেশন ট্রিপ করায় দক্ষিনাঞ্চলের বেশীরভাগ এলাকাই বিদ্যুৎ শূণ্য হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে বরিশালÑপটুয়াখালী ১৩২কেভী গ্রীড লাইন দু দফায় ট্রিপ করে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বরিশাল থেকে সুদূর কুয়াকাটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
প্রায় আধঘন্টার চেষ্টায় ২২৫কেভী সাব-স্টেশনটি চালু করে বরিশাল গ্রীড সাব-স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হলেও দুপুর ১২টার পর পরই পূনরায় একই ধরনের গোলযোগে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চল জুড়েই ‘ব্লাক-আউট’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী ও কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আধঘন্টার মধ্যে ২২৫কেভী সাব-স্টেশন সহ বরিশাল সাব গ্রীড -স্টেশন চালু করা হলেও প্রায় ৭০মেগাওয়াট চাহিদার স্থলে মাত্র ২০ মেগাওয়াটের মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছিল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানী। পটুয়াখালীতে বিদ্যুৎ সরবারহ শুরু হয় দুপুর ১টার পরে। টানা ৪দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পর তাপমাত্রার পারদ ওপরে ওঠার মধ্যেই গতকালের এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবনকে যথেষ্ঠ বিপর্যস্ত করে দেয়।
বিকলে ৩টার পরে বিদ্যুৎ সরবারহ ৬০মেগাওয়াটে উন্নীত করা হলেও পরিস্থিতি পরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো কয়েক ঘন্টা কেটে যায়। তবে বরিশাল মহানগরীতে বিকেলের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবারহ প্রায় স্বাভাবিক হলেও বিভিন্ন উপজেলা সদর সহ পল্লী বিদ্যুতের এলাকাগুলোতে সন্ধা পর্যন্তই পরিস্থিতি ছিল দুঃসহ।
এব্যাপারে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী ও বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানীর দায়িত্বশীল মহলে আলাপ করা হলে তারা সকলেই ২২৫কেভী সাব-সেটশনে সাময়িক কিছু অসুবিধার কারনে বিপত্তি দেখা দেয় বলে জানিয়ে খুব দ্রুতই বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে বরিশালের ২২৫ কেভী গ্রীড সাব-স্টেশনের সাথে সংযুক্ত ভোলা কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।