দক্ষিনাঞ্চলে আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দেশের দক্ষিনাঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিকের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। দক্ষিন-পশ্চিম মৌষুমী বায়ু বরিশাল অঞ্চল হয়ে, দেশের মধ্যভাগ থেকে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে। তবে এরই মধ্যে দক্ষিনাঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। ভোলাতে তাপমাত্রার পারদ সাম্প্রতিক কালের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসেও উঠে যাচ্ছে। গতকালও বরিশালে তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কাছে। বুধবারে তা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে আবহাওয়া বিভাগ থেকে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চল সহ উপকূলভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সাথে বজ্র বৃষ্টির সম্ভবনার কথা জানিয়ে সে সাথে কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষনেরও পূর্বাভাস দেয়া হয় গতকাল। তবে ভোলা সহ তাপ প্রবাহের এলাকাগুলোতে তা কিছুটা প্রশমিত হবার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
রোজার মধ্যে এবারের বিরূপ আবহাওয়া মাঝেমধ্যেই রোজাদারদের যথেষ্ঠু বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আজ সকালের পরবর্তি ৪৮ ঘন্টায় বৃষ্টি মাথায় করে দক্ষিন-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সারা দেশেই বিস্তার লাভ করারও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে চলতি মাসে বরিশাল অঞ্চলে স্বাভাবিক ৪৮৩ বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়ে ৪৩৫ থেকে ৫৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্ভাবাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। কিন্তু জুনের প্রথম ৯ দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমান বরিশালে দেড়শ মিলিমিটারের কিছু বেশী ছিল। যার মধ্যে প্রথম ৫ দিনেই প্রায় দেড়শ বৃষ্টি হলেও গত চার দিনে তার তেমন কোন দেখা নেই দক্ষিনাঞ্চলে। ফলে তাপমাত্রার পারদ এখনো স্বাভাবিকের ওপরে রয়েছে দক্ষিনাঞ্চলে। গত মাসে বরিশালে Ÿৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৬৬% কম। তবে গত মার্চে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫২% ও এপ্রিলে ১৬০%-এর মত বেশী বৃষ্টিপাত হয় দক্ষিনাঞ্চলে।
দক্ষিন-পশ্চিম মৌষুমী বায়ু অনেকটা সময় মতই দেশের দক্ষিন-পূর্ব উপকূলভাগ হয়ে দক্ষিনাঞ্চল থেকে মধ্যভাগে অগ্রসর হচ্ছে। যা আরো কিছুটা সক্রিয় হলে এবার সময়মতই বর্ষা মৌসুমের সূচনা হতে পারে। ইতোপর্বে আবহাওয়া বিভাগ থেকে আষাঢ়ের শুরুতেই এবার বর্ষা নামার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনো তাপমাত্রার অস্বাভাবিক আচরন দক্ষিনাঞ্চলের জনজীবনে যথেষ্ঠ অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত। দক্ষিন-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু কাঙ্খিত মাত্রায় সক্রিয় না হওয়ায় বৃষ্টিপাতের কিছুটা ঘাটতি সহ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের কিছুটা ওপরে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।