দক্ষিনাঞ্চলে অনুকূল আবহাওয়ায় প্রান ফিরে পেল ঈদের বাজার

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ টানা প্রায় পাঁচদিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শেষে গতকাল সকালে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই দক্ষিনাঞ্চলের আকাশে সূর্যের দেখা মেলায় সকলের মুখেই হাসি ফুটেছে। গতকাল সকালের পূর্ববর্তি ৯৬ঘন্টায় বরিশালে প্রায় সোয়া ৩শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এসময়ে পটুয়াখালী,ভোলা ও বরগুনা সহ মধ্য উপকূলভাগ জুড়েই ছিল বৃষ্টির দাপট। শুক্রবার বিকেল ৪টার পরবর্তি ১৮ঘন্টায় বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিনাঞ্চল ও উপকূলভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের বিশেষ বুলেটিন প্রচার করে আবহাওয়া বিভাগ। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপে ভড় করে দক্ষিন-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট মেঘমালার বয়ে আনা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে গোটা দক্ষিনাঞ্চল সহ উপকূলভাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরে। প্রবল বর্ষণে দক্ষিনাঞ্চলের প্রধান খাদ্য ফসল আমনের বিপুল পরিমান বীজতলাও এ বর্ষনের পানির তলায় চলে যায়। বিনষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমান গ্রীষ্মকালীন সবজি বাগানও। ফলে রমজানের শেষ ভাগে এসে বাজারে সব ধরনের সবজির ঘাটতি সহ দামও হয়ে ওঠে আকাশচুম্বি। তবে গতকাল সন্ধার বুলেটিনে আগামীকাল সন্ধা পর্যন্ত আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনের কথা জানিয়ে পরবর্তি পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবনতা বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। ফলে এবারের ঈদের সময় অমাবশ্যায় ভড় করে বৃষ্টির দাপটে ঈদের আনন্দ ম্লান হবার আশংকাও রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, ‘ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলকায় অবস্থানরত স্থল নি¤œচাপটি সক্রিয় রয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, স্থল নি¤œচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাংশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং দেশের বাকী অংশে কম সক্রিয়। এ মৌসুমী বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে অন্যত্র মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।
গতকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চল সহ উপক’লের বেশীরভাগ এলাকা এবং দেশের অন্যত্র কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভবনার কথাও বলা হয়েছে। সে সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভবনার কথাও জানান হয় গতকাল সকালের আবহাওযার বুলেটিনে।
এবারের রমজানে দ্বিতীয় দফার এ লাগাতর বর্ষণে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চল সহ উপকূলভাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠেছে। লাগাতার বর্ষণে বরিশাল মহানগরীর অনেক দোকানপাটেও পানি প্রবেশ করে। লাগাতার বর্ষণের সাথে দূর্বল পয়ঃনিস্কাশন ব্যাবস্থার কারনে বরিশাল মহানগরীর বেশ কিছু এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নগরীর নবগ্রাম রোড, বাংলাদেশ ব্যাংক সড়ক, ফকিরবাড়ী রোড সহ নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক টানা তিনদিন পানির তলায় ছিল।
তবে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আর কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গতকাল সকাল থেকে পরস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। গতকাল দিনভরই বরিশাল মহানগরীর বিপণী বিতান সহ সব ধরনের দোকানগুলোতেই ছিল ঈদের আমেজ। অনুকূল আবহাওয়ার কারনে ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই ছিলেন বেজায় খুশি। এবারের ঈদকে সামনে রেখে এখনো দক্ষিনাঞ্চলে ঈদের বাজার সম্পূর্ণভাবেই গতিহীন। বিরূপ আবহাওয়াই এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারন বলে মনে করছেন সাধারন ব্যবসায়ীগন।