দক্ষিণা নেতাদের খুঁজে পাচ্ছে না খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আন্দোলনের দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য দক্ষিনা নেতাদের ফোনেও পাননি দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দক্ষিনের শীর্ষ নেতাদের মুঠো ফোন বন্ধ থাকায় রীতিমত অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বেগম জিয়া। এর প্রভাব ভবিষ্যতে ওই নেতাদের উপর পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন দলের দুর্দিনে যারা নিজেদের বাঁচিয়ে চলছেন তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারন করবেন খালেদা জিয়া। কেন্দ্রীয় বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বরিশালে সরকার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রগতি, এখানকার নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং নতুন করে দিকে নির্দেশনা দেয়ার জন্য বেগম জিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ থাকায় অনেকটা ক্ষুব্ধ হন তিনি। দলের এই দুঃসময়ে মজিবর রহমান সরোয়ারকে ফোনেও না পেয়ে অনেকটা চটে যান বেগম খালেদা জিয়া। তবে এমন ক্ষুব্ধ মনোভাব শুধু সরোয়ারের প্রতিই নয় দক্ষিনের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতার প্রতি ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারী থেকে সারাদেশে টানা অবরোধের কর্মসূচি ঘোষনা করেন গুলশান বিএনপি কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বেগম জিয়া। অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি এ কর্মসূচির ডাক দেন। এখনো তিনি কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছেন সেখানে। ইতিমধ্যে অবরোধের ৬২তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এর মাঝে চলছে থেমে থেমে হরতাল। গতকাল রোববার থেকে আবারও শুরু হয়েছে টানা ৭২ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচি। অবরোধের প্রথম ২/৪ দিন মজিবর রহমান সরোয়ার মাঠে থাকলেও হঠাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এর পওে বন্ধ হয়ে যায় তার মোবাইলও। এখানকার তৃনমূলের নেতাকর্মীরাও তাকে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। বরিশালে মাঝে মাঝে বিক্ষোভ কর্মসূচি হলেও সেখানে তার দেখা মিলছেনা। বরিশাল ছাড়াও অন্যান্য জেলার প্রতিও তেমন সন্তুষ্টু নন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ঝালকাঠী জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ওমর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী অবরোধের প্রথম থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তারা এখন নিজেদের বাঁচাতে ব্যস্ত। খোঁজ নিচ্ছেননা স্থানীয় নেতাকর্মীদের। দক্ষিনাঞ্চলে এখন সব ধরনের কর্মসূচি পালন করছে সাধারন কর্মীরা। দলের সুবিধা বিগত বছরেও যারা নিয়েছেন তাদের কারোরই খোঁজ নেই। সারাদেশের মধ্যে একমাত্র বরিশাল বিভাগেই অবরোধে কোন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারছেননা এখানকার নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতারা অত্মগোপনে চলে যাওয়ায় বরিশালের জামায়াত নেতারাও চুপ। তারা অবরোধের প্রথম দিকে মাঠে থাকলেও এখন আর নেই। এর কারন হিসেবে এক জামায়াত নেতা পরিবর্তনকে বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতারাই যেখানে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না সেখানে আমরা মাঠে নামবো কেন। বেগম খালেদা জিয়া গেল সপ্তাহে দেশের ৫৪ জেলায় আন্দোলন সংগ্রামের ব্যাপারে বেশ কিছু দিক নির্দেশনা দিলেও বরিশালের কাউকে পাননি তিনি। কেন্দ্রীয় এক নেতা পরিবর্তনকে জানান, ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়া নিজেই তৃনমূলের অনেক নেতাদের সাথে মোবাইলে সরাসরি কথা বলেছেন। এবারও তিনি আন্দোলন চাঙা করতে সেই পথ অনুসরন করছেন। সেই লক্ষ্যে প্রথমে তিনি বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বরিশালে এখন পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি খালেদা জিয়া।