দক্ষিণাঞ্চলের সকল রুটে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ ॥ ছেড়ে যায়নি কোন লঞ্চ

রুবেল খান ॥ নিম্নচাপের কারণে বরিশাল-ঢাকা সহ দক্ষিণাঞ্চলের সকল রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষনা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। গতকাল সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল কার্যালয়ের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধের ঘোষনা দেন। এর ফলে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা চারটি লঞ্চ নৌ বন্দর ত্যাগ করেনি। বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা নৌ বন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের লঞ্চ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে নামিয়ে দিয়েছেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার যাত্রীকে। লঞ্চ না ছাড়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা লঞ্চে অপেক্ষা করা যাত্রাদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।

এদিকে নিম্নচাপের কারনে রোববার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং বরগুনায় বৃষ্টিপাত হয়। নি¤œ চাপের কারনে বরিশাল নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নদীগুলোতে ১ থেকে ২ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর সমূহের নিম্নাঞ্চচলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার বৈরিতার কারনে সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের। তাপমাত্রাও ছিলো নিম্নমুখি। হালকা থেকে ভারি বর্ষনের কারনে মানুষের স্বাভাবিক জন-জীবন ব্যহত হয়ে পড়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপ উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল সোমবার সকাল ৬ টায় ভোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলো। যা গতকাল রাত নাগাদ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে স্থলভাগে অগ্রসর হয়। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সতর্ক বার্তা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই দেশের অন্যান্য সমুদ্রবন্দরের ন্যায় পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং বরিশাল নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়।

এদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (নৌ-নিটা) বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, রাতে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরুপ আকার ধারন করে। লঘুপাচ নি¤œ চাপে পরিনত হওয়ায় নৌ বন্দরগুলোতে বিশেষ সতকর্তা অবলম্বনের জন্য বলা হয় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে। আর তাই গতকাল সোমাবার রাত সোয়া ৯টার দিকে বরিশাল-ঢাকা সহ দক্ষিণাঞ্চলের সকাল রুটে সকল প্রকার নৌযান চলাচলের প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব নৌযান মাঝ নদীতে অবস্থান করছে সেগুলোকে তৎ সংলগ্ন নদীর তীরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার জন্য বরিশাল নৌ বন্দরে চারটি নৌযান অপেক্ষমান ছিলো। এগুলো হলো- সুরভী-৯, পারাবত-১১, সুন্দরবন-১২ এবং তাসরিফ-২। বিকাল থেকেই লঞ্চগুলোতে যাত্রী উঠানো হয়। রাতে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরুপ আকার ধারন করলে রাতে ঢাকা-বরিশাল রুটের ওই চারটি নৌযানের যাত্রা বাতিলের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সাথে ডেক এবং কেবিনের যাত্রীদের লঞ্চ থেকে নামিয়ে রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নৌ যান চলাচল বন্ধে দেয়া নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলেও জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র ওই কর্মকর্তা।

অপরদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনছার উদ্দিন জানান, উপকূলে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। তাই সমিতির পক্ষ থেকে সকল ট্রলার মালিক ও জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে। অনেক ট্রলার গতকাল দুপুরের মধ্যেই তীরে এসে পৌছে গেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস ভূইয়া জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৭৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৫ ঘন্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঘন্টায় বাতাসের গতিবেগ ছিলো ৪৫ কিলোমিটার পর্যান্ত । নিম্নচাপের কারনে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত আরো ২/১ দিন থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।