দক্ষিণাঞ্চলের তাপমাত্রায় বসন্তের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ টানা তিন দিনের ঘন কুয়াশার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের তাপমাত্রায় এখন বসন্তের আমেজ। গতকাল বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রার পারদ ১৮.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যায়। পটুয়াখালীর কলাপাড়াতে এসময় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১৯.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অথচ মাত্র সাতদিন আগেই বরিশালে সাম্প্রতিককালে সর্বনি¤œ ৭.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। গত তিন দিন ধরে নদী অববাহিকায় ঘন কয়াশায় সড়ক ও নৌ পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতার সাথে উত্তর-পূবের মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এবার দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে ঠান্ডা জনিত রোগাবালাইর প্রকোপও বেশী। বরিশাল ও ভোলার হাসপাতালগুলোতে এবার রেকর্ড পারিমান নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে মধ্য শীত মৌসুম থেকে আবহাওয়ার নানা বিরূপ আচরণে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায়ও যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিককালের সর্বনি¤œ তাপমাত্রার আবহাওয়া আবাদকৃত গমের উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক হলেও বোরা বীজতলা এবং গোল আলু সহ অন্যান্য রবি ফসলের তা যথেষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবার ফলে ভিন্ন সমস্যা সৃষ্টিরও আশংকা রয়েছে।
তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামার সাথে গত তিনদিনের লাগাতার কুয়াশায় সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক ও নৌ পরিবহন ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই মাঝ রাত থেকে সকাল পেরিয়ে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় রাজধানীর সাথে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক পথের দুটি ফেরি সেক্টরে যানবাহন পারাপার বন্ধ থাকছে ৫-৭ ঘন্টা পর্যন্ত। ফলে শীতের রাতে পাটুরিয়াÑদৌলতদিয়া এবং মাওয়ার শিমুলিয়াÑকাঠালবাড়ী ও চরজানাজাত ফেরি ঘাটগুলোতে শত শত যানবাহনে হাজার-হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। এমনকি রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথের মেঘনা অববাহিকায়ও শতাধিক যাত্রীবাহী নৌযান হাজার-হাজার যাত্রী নিয়ে আটকা পড়ছে ঘন কুয়াশায়। সোমবার শেষ রাতে ঢাকাÑবরিশাল রুটের রকেট স্টিমার ‘পিএস অষ্ট্রিচ’ কালগঞ্জের কাছে ঘন কুয়াশায় নোঙর ফেলে। নৌযানটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৬ঘন্টা পরে বরিশালে পৌছে। একইদিন বেসরকারি যাত্রীবাহী নৌযান ‘এমভি সুরভী-৮’ ও ‘এমভি সুন্দরবন-৮’ কয়েকটি স্থানে ঘন কুয়াশায় আটকা পড়ে। গতকাল মধ্যরাতে চাঁদপুর ঘাট ত্যাগ করার ঘন্টাখানেক বাদে বিআইডব্লিউটিসি’র যাত্রীবাহী নৌযান ‘এমভি মধুমতি’ মেঘনার চরের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী নৌযানের সাথে সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, আজ ও কাল দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মধ্য রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মাথায় রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। উপমহাদেশের উচ্চ বলয়োর বর্ধিতংশ ভারতের বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পূবালী লঘু চাপ ভারতের পশ্চিম বঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। চলতি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘু চাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
এদিকে গতকালও পাটুরিয়াÑদৌলতদিয়া ও কাজীরহাট রুটে সকাল ৭টা থেকে ৮টা এবং মাওয়ার শিমুলিয়াÑকাঠালবাড়ী ও চরজানাজাত রুটে রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা এবং চাঁদপুরÑশরিয়তপুর রুটে রাত ১২টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে সকাল ৮টার দিকে এসব ফেরি সেক্টরের ঘাটগুলোতে প্রায় ৮শ পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ে। তবে বিঅইডব্লিউটিসি’র ফেরি সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনভর যুদ্ধকালীন তৎপড়তায় যানবাহন পারাপারের ফলে বিকেলের মধ্যেই সবগুলো ফেরি সেক্টরই যানযট মুক্ত হয়েছে।