ত্রি-মুখী দ্বন্দ্বে জাপা মহানগরের এক সদস্যের কমিটি পূর্নাঙ্গহীন

রুবেল খান ॥ জাতীয় পার্টির ত্রি-মুখী দ্বন্দ্বে আটকে আছে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কাউন্সিল শেষ হওয়ার প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও এক সদস্যতেই আটকে আছে মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি। আর সেই এক সদস্যের কমিটি দিয়েই চলছে এক পক্ষের সাংগঠনিক কার্যক্রম। তবে গ্রুপিংয়ের কারনে দুর্বল হয়ে পড়েছে অপর দুই গ্রুপ।
এদিকে পার্টির মধ্যে গ্রুপিং এর বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন নীতি নির্ধারনী ও শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। তাদের দাবী অচিরেই ঘোষণা হচ্ছে মহানগর জাতীয় পার্টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
সূত্রমতে, দীর্ঘ দিন থেকেই জাতীয় পার্টিতে দুরাবস্থা চলছে। ক্ষমতা ত্যাগের পর বিভিন্ন কারনে বহু জ্যেষ্ঠ নেতারা পার্টি ছেড়ে আ’লীগ এবং বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও মূল দল ভেঙ্গে চার ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এগুলো হলো- সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (জাপা), আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (জেপি), প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুর করা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজিপি) ও কাজী জাফর আহম্মেদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি। যে কারনে শুধু বরিশাল জেলা বা মহানগরীতেই নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলের জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে অবস্থা থেকে বের হতে পারেনি। এতে অনেক নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। জাতীয় পার্টি, জেপি ও বিজিপিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে গুটি কয়েক নেতায় পরিণত হওয়া জাপায় শুরু হয় অন্তঃদ্বন্দ্ব।
তবে গত ৫ই জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে থেকে পূনরায় সু-সংগঠিত হতে থাকে বরিশাল জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি। বিশেষ করে নির্বাচনের পর সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির অবস্থান থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতির হাল চালের আরো বেশ পরিবর্তন ঘটে। বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, এ্যাড. একেএম মুরতজা আবেদনী, বশির আহম্মেদ ঝুনু, আলতাফ হোসেন ভাট্টি এবং মীর জসিম সহ অন্যান্য স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা হাল ধরে পুনরায় সু-সংগঠিত করে তোলেন পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি।
এদিকে বরিশালে পার্টির ভরা মৌসুম শুরুর পর পরই জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটি। যে কারনে বরিশালে জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে দেন। যেখানে জেলার আহ্বায়ক করা হয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি টিপু সুলতানকে। এছাড়া মহানগর কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় এ্যাড. মুরতজা আবেদনী এবং সদস্য সচিব বশির আহম্মেদ ঝুনুকে।
সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তৃতীয় ধরায় বিভক্ত হয় বরিশাল জাতীয় পার্টি। এতে অবশ্য তিন পক্ষের রেষারেষিতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেকটা চাঞ্চল্যতা ফিরে আসে। তবে সেই চাঞ্চল্যতা বেশিদিন স্থায়ীত্ব পায়নি। দুই পক্ষকে বাদ দিয়ে বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন আয়োজন করায় নিমেশেই স্তব্ধ হয়ে যায় জেলা এবং মহানগর জাতীয় পার্টির বিশাল একটি অংশ।
এদিকে গত ৮ জুন জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির বড় একটি অংশের বাধা অতিক্রম করে মহানগরের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সহ কেন্দ্রের প্রায় ডজন খানেক নেতারা অংশ নেয়। এতে লোক সমাগম হয় বেশ চোখে পড়ার মত। অবশ্য সম্মেলন শুরুর পূর্বে নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তের সামনে সম্মেলনের বিপক্ষে কাফনের কাপড় পড়ে বিক্ষোভ করেন পার্টির বিবাধমান গ্রুপের নেতা-কর্মীরা। যে কারনে কোন প্রকার ভোটা ভোটি ছাড়াই জাপা’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি সম্মেলনের দিন কমিটি ঘোষণা স্থগিত রেখেই ঢাকায় ফিরে যান পার্টির চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অবশ্য এরপর দিন বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এ্যাড. একেএম মুরতজা আবেদীনকে পুরস্কার সরূপ মহানগর জাপা’র সভাপতি ঘোষনা করে একটি চিঠি বরিশালে প্রেরন করা হয়। তবে এক সদস্য বিশিষ্ট কোন কমিটি সংবিধান সম্মত না হওয়ায় কমিটির বিপক্ষে প্রতিবাদ জানান বিবাধমান অপর দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা। যে কারনে সম্মেলন শেষে প্রায় আড়াই মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন ঘোষনা করেননি কেন্দ্রীয় কমিটি।
এর কারন হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, বরিশাল জাতীয় পার্টিকে গ্রুপিং ভেঙ্গে এক প্লাট ফার্মে এসে দাড়াতে বলা হয়েছে। গ্রুপিং থেকে সড়ে না দাড়ালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিবে না কেন্দ্রীয় কমিটি।
তবে এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাড. একেএম মুরতজা আবেদীন বলেন, আমরা কমিটির খসড়া তালিকা অনেক আগেই কেন্দ্রে প্রেরণ করেছি। তাছাড়া কাউকে বাদ দিয়ে কমিটি হবে না। সবাইকে রেখেই আমরা কমিটির খসড়া কেন্দ্রে প্রেরন করেছি। এখন শুধু ঘোষনার অপেক্ষা।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, বরিশাল জেলার আহ্বায়ক এবং সাবেক এমপি টিপু সুলতান বলেন, কমিটি কেন্দ্রে জমা রয়েছে। সবে মাত্র রোজা এবং ঈদ গেলো। তার মধ্যে আবার এখন বর্ষা মৌসুম। যে কারনে নেতা-কর্মীরা কমিটির জন্য আসছে না। নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে কমিটি নিতে আসলেই মহানগর জাপা’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় এই নেতা।