তৃণমূল নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তা দেয়া আইনজীবীরা নজরদারিতে

জুবায়ের হোসেন/ওয়াহিদ রাসেল॥ মামলায় জর্জরিত বরিশাল জেলা ও মহানগরে নেতাকর্মীদের বিনে খরচায় আইনী সহায়তা দিচ্ছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একটি কমিটি। মৌখিকভাবে কমিটি গঠন করে দিলেও দলের স্বার্থে সক্রিয় রয়েছেন কমিটির গুটি কয়েক আইনজীবী। তারা এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের জামিনে বের করেছেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে পুরোপুরি সফল হচ্ছেন না বলেও দাবী করেছেন তারা। একই সাথে জামায়াতের আটককৃতদের জন্য একইভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সমমনা আইনজীবীরা। এ সকল ক্ষেত্রে কাজের জন্য নজরদারীতে পড়তে হচ্ছে বলেও দাবী করে তারা জানান, দলের স্বার্থে যেকোন সমস্যার মোকাবেলা করতে মানষিক প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ওই মৌখিক কমিটিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসা আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, ২০১০ সাল থেকে কমিটির এই সেবা দেয়ার কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত সহ¯্রাধিক নেতা কর্মীদের জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছে কমিটি। শুধুমাত্র মামলার নকল কপি উত্তোলনের মত বাধ্যতামূলক সরকারি খরচ ব্যতিত কোন খরচ নেয়া হয়নি। এই কমিটিতে আইনজীবী ফোরামের পরেও বেশ কয়েকজন আইনজীবী কর্মরত আছেন তারা হলেন, মহানগর আইন বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ(১), মজিবর রহমান নান্টু, কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু, মহসিন মন্টু, শেখ হুমায়ুন কবির মাসুদ, পানামা বজলুর রশিদ রুমি, কাজী বশির উদ্দিন, এসএম সরোয়ার ও শহীদ হোসেন সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। কোন প্রকার সম্মানী ছাড়াই তারা এই সেবা দিয়ে আসছেন। দলীয় নেতা বা আইনজীবীদের কাছ থেকে সহায়তা না পাওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সব সময়ে সব ধরনের রাজনৈতিক মামলার আসামীদের স্বজনরা তাদের কাছে আসেন না, পূর্বে সাবেক পিপি কামরুল আহসান শাহীন জীবিত থাকা কালীন সব বিষয়গুলো তিনিই দেখতেন। দলীয় মামলার বিষয়ে তিনি সকলের কাছে এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাই দলীয় সকল মামলা তার নখদর্পনে ছিল বিধায় যথাযথ সেবা দেয়া যেত। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুতে এ বিষয়টি অনেকটাই এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন দলীয় মামলায় অভিযুক্তদের স্বজনরা আদালতে পরিচিত কাউকে না পেয়ে কিছু সুযোগবাদী আইনজীবী ও একাধিক দালালের খপ্পরে পরেছেন। অনেক সময়ে ফোরাম তাদের জন্য সহায়তায় এগিয়ে গেলেও তারা ফায়দা নিচ্ছে ঐ সকল সুযোগ সন্ধানী আইনজীবীরা। আর এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের অভাব। তার মানে এই ফোরাম তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। ৬ জানুয়ারি থেকে পাওয়া রাজনৈতিক ১৮ মামলায় প্রায় ২৫০ থেকে শতাধিক নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে। এতে করে ফোরামের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সদস্যরা রয়েছে উপর মহলের নজরদারীতেও। বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় আটককৃতদের জামিনের আবেদন আদালতে না মঞ্জুরের তিনি আরও বলেন, বিশেষ কোন কারণ উল্লেখ না করেই জামিন বাতিল করে দিচ্ছেন বিচারকবৃন্দ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্যই এমন হতে পারে বলেও ধারনা পোষন করেছেন তিনি। তবে সর্বশেষ তিনিব জানান, দলের স্বার্থে, দলের নেতাকর্মীদের স্বার্থে সর্বদাই আইনি সহায়তা দিতে সদা প্রস্তুত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, তবে অনেকেই তাদের সাথে যোগাযোগ না করে অন্য আইনজীবীদের সহায়তায় জামিনের চেষ্টা করেন, সে ক্ষেত্রে তাদের করার মত কিছুই নেই। তবে তারা যদি ফোরামের সাথে যোগাযোগ করে তবে তাদের সার্বিক আইনী সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বদাই প্রস্তুত রয়েছেন তারা।