তৃণমূলের বিদ্রুপের শিকার বিএনপির নেতারা

জুবায়ের হোসেন॥ একের পর এক প্রতিশ্রুতি, দল পুনঃগঠনের ব্যর্থ চেষ্টা আর সিনিয়র নেতাদের চুপষে যাওয়ায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির তৃণমূল নেতা কর্মীরা। বিগত কয়েক বছরের নিষ্ফল কর্মকান্ডে তৈরি হওয়া এই তিক্ততা এখন প্রকাশ হচ্ছে পথে ঘাটে। যে সকল সিনিয়র নেতাদের নির্দেশে এক সময় তৃণমূল নেতারা মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করত আজ তাদের দেখে সম্মান প্রদর্শন তো দূরের কথা- করছেন ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ। তবে সিনিয়রদের নিজেদের দোষেই এমনটা হয়েছে বলে দাবী অভিযোগকারী তৃণমূল বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের। তারা বলেন, যখন সময় ছিলো নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে আর এখনতো নিজেরাই প্রায় অকেজো। এই জন্যই বিগত এক বছর ৯ মাসে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী আ’লীগে যোগ দিয়েছেন, বর্তমানেও দিচ্ছেন। এই যোগদান সামনে আরো বাড়বে বলেও ধারণা পোষণ করে তারা। তবে এমনটা সিনিয়র নেতাদের জানা ও মানা দুই হলেও তাদের দাবী এই পরিস্থিতি সাময়িকের। এ বিষয়ে আলাপকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানায়, বরিশাল বিএনপির রাজনীতি শুরু থেকেই অনেকটা শক্তিশালী হলেও তা ছিল ব্যক্তিনির্ভর। ক্ষমতার সময় হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ভালই ছিলো এখানকার তৃণমূল সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। কর্মসূচীগুলোও হতো তাক লাগানো। কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতা হারাবার পর থেকেই নেতারা হয়ে যান আত্ম কেন্দ্রিক। তবে তাতে তেমন একটা সমস্যা ছিল না কারন দল চলছিল ভাল ভাবেই। বিপত্তি শুরু হয় ২/৩ বছর আগ থেকে। যখন নেতারা কোন ভাবেই সুবিধা করতে পারছিলেন না রাজনীতির মাঠে। অবস্থা যতই প্রতিকূল হয় দিনে দিনে নেতারা নিজেদের স্বার্থে কেটে পরেন। তৃণমূলকে ভুলে গিয়ে ব্যস্ত হন আপন স্বার্থে। অন্যদিকে ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির পর থেকে নিজে বাঁচলে বাপের নাম এই নীতি অবলম্বন করেন তারা। যার ফল স্বরূপ সরকার, প্রশাসন ও মামলার চাপে পৃষ্ঠ হয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সে থেকেই তাদের বিরক্তিতে পরিণত হয় সিনিয়র নেতারা। অন্যদিকে শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে দল পুনঃগঠনের একের পর এক আশ^াস ও ব্যর্থ চেষ্টা তিক্ততা বাড়িয়েছে আরও। আগের কথা বাদ সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে দল এর প্রতিটি ইউনিট পুনর্গঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ব্যর্থতা তৈরি করেছে আরও হতাশা। যে হতাশা তৃণমূলের মাঝে সস্তা করে তুলেছে সিনিয়র নেতাদের সম্মানের অবস্থান। এখন তারা তাদের নিয়ে প্রকাশ্যে অনেকটা সম্মুখেই করে থাকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। সুবিধাবাদি অনেক তৃণমূল কর্মী প্রথমে ক্ষমতাসীনদের সাথে লিয়াজু এবং পরে করছে যোগদান। তবে এখন শুধু সুবিধাবাদিরাই নয় যোগদানের হিড়িক পরেছে ত্যাগিদেরও। কিন্তু যোগদানের কথায় মহানগরের তত্ত্বাবধায়ক নেতাদের দাবী পদবি ওয়ালা কেউ যাচ্ছে না। এই বিষয়ে তৃণমূল বলে, যাচ্ছে না বিষয়টি ঠিক নয়, তারা পদবি মামলা ইত্যাদির ঝামেলায় যেতে পারছেন না। দলের প্রতি আস্তা রেখে এখনও পথে টিকে আছে এমন নেতাকর্মী একেবারেই শূন্যের কোটায়। তাই যারা একরকম ফেসে গিয়েছেন তারাই ক্ষোভে দুঃখে সিনিয়রদের দিচ্ছেন ভৎসনা।
এ বিষয়ে কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, এই পরিস্থিতি সাময়িক সময়ের। দলের বর্তমান অবস্থা ঠিক নেই তাই এমন হচ্ছে। শীঘ্রই দল পুনর্গঠনে মাঠে নামবেন তারা। আর তাতেই সাবেক হবে পরিস্থিতি আবার ফিরবে তৃণমূলের অবস্থা।