তুচ্ছ ঘটনায় বিয়ে বাড়ীতে তুলকলাম কান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ খাসির মাংস না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িতে বর-কনে এবং গ্রাম বাসীর মধ্যে তৃমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি সহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের বৌসেরহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে জনপ্রিয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টু সহ দু’জনকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বরের বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে। খাবার কম পাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও জনপ্রিয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টুকে সাইজ করতে বিষয়টি রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। ফলে এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদুজ্জামান আজকের পরিবর্তনকে জানান, উত্তর কড়াপুরের বৌশেরহাট গ্রামের আব্দুর রব খান ওরফে রশিদ মাষ্টার এর ছেলে মহিন উদ্দিন খান এর সাথে বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাংশা গ্রামের রব হাওলাদারের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার এর বিয়ে হয়। বিয়ে উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ছিলো বরের বাড়িতে বৌ ভাত অনুষ্ঠান। সে অনুযায়ী দুপুরে বৌশেরহাট বরের বড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠান চলাকালে স্থানীয়দের খাসির মাংস কম দেয়া হয়। এ নিয়ে বরের ভাই সুমন এর সাথে স্থানীয়দের কথা কাটাকাটির এক পর্যায় সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি বর-কনে এবং গ্রামবাসীর মধ্যে তৃমুখি সংর্ষের  দিকে গড়ায়।
ওসি শাহেদুজ্জামান জানান, তিনি সহ পুলিশের টিমসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। তবে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। তিনি বলেন, এ নিয়ে কোন পক্ষ এখন পর্যন্ত মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেয়ানি। দিলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহন করা হবে।
এদিকে আহত ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টু জানান, বিকালে তার শাশুরিকে লঞ্চ ঘাটে এগিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময়  শুনতে পান এলাকার দত্তবাড়িতে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেন। এক পর্যায় কনে পক্ষের বাড়ির দুই যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাবিবুর রহমান মিন্টুকে কুপিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করে। এসময় রুবেল নামের স্থানীয় আরো এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে কনে পক্ষের লোকেরা। পরে পুলিশের সহাযোগিতায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অপরদিকে এলাকাবাসী জানায়, জনপ্রতিনিধি হাবিবুর রহমান মিন্টুকে কুপিয়ে জখম করার পর পরই ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এলাকাবাসী। এক পর্যায় তারা কনে পক্ষের লোকেদের উপরে হামলার চেষ্টা করলে বর-কনে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে তৃমুখি সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে বর পক্ষ আ’লীগের জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হাবিবুর রহমান মিন্টুকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে তাকে সাইজ করতে বরের বাবা, ভাই সহ স্থানীয় একটি মহল এ মিশনে নেমেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য মিন্টু।