তিন বন্ধুর ধর্ষনেই মৃত্যু হয় শিশু তন্নীর

ওয়াহিদ রাসেল ॥ নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের নবগ্রাম রোডের ৯ বছর বয়সি মাদ্রাসা ছাত্রী তন্নী আক্তারকে পালাক্রমে ধর্ষন করা হয়। ধর্ষনের সময়েই মৃত্যু হয়েছিলো শিশুটির। এরপর তন্নীর হত্যার দায় এড়াতে খুনীরা লাশ ফেলে দিয়েছিলো ডোবায়। ঘটনার ৮ দিনের মাথায় তন্নী হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী ঈমাম হোসেন আদলতে লোমহর্ষকর এ ঘটনার বিবরন দেয়। গতকাল বুধবার ধর্ষন ও হত্যার ঘটনায় ইমামের দেয়া স্বীকারক্তিমুলক জবানবন্দি অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক অমিত কুমার দে ১৬৪ ধারায় নথিভূক্ত করেন । জবানবন্দি শেষে কিশোর অপরাধী ঈমামকে যশোর পুলের হাট কিশোর উন্নয়ন সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিস্ট থানার জিআরও এসআই আশিষ পাল। এর আগে গত মঙ্গলবার নগরীর বগ্রাম রোড এলাকা থেকে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেন মাদ্রাসা ছাত্রী তন্নী আক্তার হত্যা মামলার ঘাতক ঈমাম হোসেন (১৬) কে। সে নবগ্রাম রোডের খান সড়কের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা আব্দুস ছালাম হাওলাদারের ছেলে। তবে তার দেয়া স্বীকারক্তি অনুযায়ী তন্নী ধর্ষন এবং হত্যা মামলার বাকি দুই আসামী এখনো পালাতক রয়েছে। পুলিশি তদন্তের স্বার্থে বাকি দুই ধর্ষক হত্যাকারীর নাম পরিচয় ও ঠিকানা প্রকাশ করেনি। সূত্রমতে, নবগ্রাম রোড খান সড়কের ভাড়াটিয়া কালাম খানের ভাড়াটিয়া টেনু পালোয়ানের ৯ বছর বয়সি কণ্যা তন্নী আক্তার। সে নবগ্রাম রোডের ফয়জুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাবাকে ডেকে আনার জন্য ঘর থেকে বের হয় তন্নী। পরবর্তীতে বাবা একা বাসায় ফিরলেও তন্নীর খোঁজ পাচ্ছিলো না পরিবারের স্বজনরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা রাস্তায় বের হলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ডোবায় শিশু তন্নীর মৃত দেহ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশকে সংবাদ দেয়। কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেন। এদিকে তন্নীর মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে বেশিরভাগ মানুষের ধারনাই ছিলো এটি একটি হত্যাকান্ড। সেই ধারনা থেকেই বেরিয়ে আসে তন্নীর মৃত্যুর রহস্য। ময়না তদন্তের প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় হত্যার পূর্বে তন্নীকে ধর্ষণ করা হয় বলে প্রমান পান ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক। তবে তার ঘাতকরা রয়ে যায় অদৃশ্যে। অপরদিকে তন্নী হত্যাকান্ডের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে রাতেই কোতয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা টেনু পালোয়ান।
এর পর পরই মাঠে নেমে পড়েন কোতয়ালী পুলিশের টিম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের সহ চৌকশ টিম প্রাথমিক ভাবে আটক করেন এক যুবককে। তবে তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডের তেমন কুল কিনারা খুঁজে পায়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবগ্রাম রোডে নিহত শিশু তন্নীর বাসার পাশের বাসিন্দা ঈমাম হোসেনকে আটক করে পুলিশ। এর পর পরই পরিস্কার হয়ে যায় তন্নী হত্যা কান্ডের রহস্য। রাতভর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক হওয়া ঈমাম হোসেন তন্নী হত্যার দায় স্বীকার করার পাশাপাশি তার সাথে থাকা অপর দুই ঘাতকের সংশ্লিষ্টতার কথাও জানায়।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল বুধবার ঈমাম হোসেন হাওলাদারকে আদালতে হাজির করা হলে কিশোর অপরাধী ঈমাম তন্নী হত্যার বিষয়ে স্বীকারক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতের কাছে দেয়া তার স্বীকারক্তি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তন্নী ঘর থেকে বের হবার পরে রাস্তা থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যায় ঈমাম সহ তার তিন সহযোগী। রাতের আধারে তাকে যে খান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেই ডোবার পাশে নিয়ে যায়। সেখানে ঈমাম সহ তিনজন শিশুটিকে মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষন করেন। শুধু তাই নয়, তখন বলাৎকারও করা হয় তাকে। এতে করে তার পায়ুপথ এবং গোপনাঙ্গ থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরন শুরু হয়। আর তখনই মৃত্যু হয় শিশু তন্নীর। পরে শিশুটিকে ফেলে দেয়া হয় পাশের ডোবায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের বলেন, প্রথম থেকেই আমাদের ধারনা ছিলো এটি হত্যাকান্ড। তবে এর ক্লু খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কৌশল অবলম্বন করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছেন। তিনি বলেন, তন্নী হত্যা কান্ডের ঘটনায় আরো ২ জন জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্ত সার্থে তাদের নাম-পরিচয় এবং ঠিকানা প্রকাশ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।