তিন নার্সিং কর্মকর্তাকে হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ নার্সদের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ’র (স্বানাপ) শীর্ষ পর্যায়ের তিন নেতৃবৃন্দকে হয়রানিমুলক ভাবে বদলির করার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের সর্বস্থরের নার্সরা। পরিচালক কর্তৃক নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরে বদলির সুপারিশ প্রত্যাহার করা না হলে হাসপাতাল অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা। গতকাল রোববার শেবাচিম হাসপাতাল চত্ত্বরে বিক্ষোভ করে আল্টিমেটাম দেয়া হয়। আন্দোলনরত হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা পুতুল সুতার জানান, শেবাচিম হাসপাতালে সাড়ে আটশ’ নার্স রয়েছেন। কিন্তু এসব নার্সদের জন্য পানি পান করার কোন ব্যবস্থা নেই। তাই সাধারণ নার্সরা হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নার্সেস ক্যাফেটেরিয়ার নির্মান করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী করে। হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কমিটির সভায় সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি নার্সেস ক্যাফেটেরিয়া নির্মান করে দেয়ার জন্য পরিচালককে নির্দেশ দেন। কিন্তু ক্যাফেটেরিয়া স্থাপনে বিলম্ব করেন পরিচালক ডা. এস এম সিরাজুল ইসলাম। তাই সাধারন নার্সদের পক্ষ হয়ে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) বরিশাল বিভাগের সভাপতি ও জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক ফরিদুন নেছা, বিভাগীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সিকদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের খান সহ বেশ কয়েকজন নার্সিং কর্মকর্তা হাসপাতাল পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম’র কাছে গিয়ে কবে নাগাদ করা হবে জানতে চায়। এতে পরিচালক ক্ষিপ্ত হয়ে তিন নার্সকে অন্যত্র বদলির জন্য গত ২ জুলাই নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদফতরে সুপারিশ পাঠিয়েছেন।

আন্দোলনরত নার্সরা জানান, পরিচালক হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতা আড়াল করতে নার্সিং কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাই পরিচালককে ষড়যন্ত্রমুলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকাসহ অবিলম্বে তিন নার্সিং কর্মকর্তাকে বদলির জন্য প্রেরিত সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবী জানান নার্স নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় শেবাচিম হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন।

স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এবং জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ফরিদুন নেছা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতাল পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম ছিলেন ড্যাব নেতা। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে আওয়ামী লীগের ফরম পুরন করে নব্য আওয়ামীলীগ সেজেছেন। অথচ তার মধ্যে থেকে আওয়ামী লীগ নিয়ে হিংসা বিদ্বেষ কাটেনি। তাই আওয়ামী লীগের নাম শুনলেই তার শরীরে জ্বালা ধরে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে বিএনপি এবং ড্যাব অনুসারী নার্সরা যা বলছে সেভাবে কাজ করছেন পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম। তিনি চাননি এই হাসপাতালে স্বাধীনতার স্বপক্ষের কোন শক্তি উজ্জীবিত হোক। তাই তিনি সদ্য গঠিত স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ’র কমিটি গঠনেও বাঁধা প্রদানের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার সেই ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি। তার পরেও স্বানাপকে তিনি মাঝপথেই থামিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। সেই ষড়যন্ত্রনের অংশ হিসেবে স্বানাপের তিন শীর্ষ নেতাকে বরিশাল থেকে অন্যত্র বদলি করতে সুপারিশ করেছেন। তার ধারনা এই তিনজনকে বদলি করাতে পারলেই স্বানাপ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাছাড়া সাধারন নার্সদের কর্মক্ষেত্রে নানা ভাবে লঞ্চনা এবং হয়রানিও করছেন পরিচালক। এরই একটি উদাহরন তুলে ধরে স্বানাপের নেত্রী ফরিদুন নেছা বলেন, হাসপাতালের ইপিআই বিভাগে কর্মরত ছিলেন রানী আক্তার নামের এক নার্স। তার সাথে আপত্তিকর মন্তব্য করেন পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে আমাদেরকে জানালে তাতেও দোষ ধরেন পরিচালক। তাই শাস্তিস্বরুপ রানীকে ইপিআই থেকে অন্যত্র বদলি করেন। পরিচালক এ ধনের আরো বহু ঘটনার সৃষ্টি করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন নার্স নেত্রী।

এদিকে তিন নার্স নেতাকে বদলির ষড়যন্ত্র এবং হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পেয়েছি। তিনি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেও প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাদের সাথে সভা-সমাবেশ করছেন। আওয়ামীলীগের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি স্বানাপ এর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করবেন এটা মেনে নেয়া যাবে না। কেননা স্বানাপ সব সময়েই নির্যাতিত এবং অবহেলিত নার্সদের কল্যানে কাজ করে আসছে। বরিশালে তিন নার্স নেতৃবৃন্দকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তা প্রতিহত করতে বরিশালের নার্স নেতৃবৃন্দ যে পদক্ষপ এবং কর্মসূচি গ্রহন করবেন তার সাথে কেন্দ্রীয় কমিটি একাত্ত্বতা প্রকাশ এমনকি প্রয়োজনে বৃহত্তর কর্মসূচিও দিতে পিছ পা হবে না বলে জানিয়েছেন এই কেন্দ্রীয় নেতা।

পরে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করলে বিষয়টি তারা খুব দ্রুততার সাথে সমাধানের আশ্বাস দিলে বিক্ষুদ্ধ নার্সরা শান্ত হন।