তিন দিনে জোটের ৫৪ নেতাকর্মী কারাগারে

জুবায়ের হোসেন ॥ গত দিন দিনে বিএনপির ৫৪ নেতা-কর্মীকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। এদের মধ্যে সিংহভাগ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার দাবি করেন, মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে জামিন অযোগ্য ধারা জুড়ে দেয়ায় নেতা কর্মীরা কারান্তরীন হচ্ছে।
তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে নেতা-কর্মীরা হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করছে। জামিন পেলে রাজপথে সক্রিয় আন্দোলন করার কৌশল হিসেবে আত্মসমর্পন।
এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তৃনমূলের নেতারা। তাদের দাবি সরকারের কোন কঠোরতার কারনে কোন কৌশল সফল হবে না। উল্টো নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন কারাবাসী হবে। এতে আরো সমস্যায় পড়বে দল। কারান্তরীন থাকার কারনে বিএনপির জেলা ও মহানগর শাখার কোন কর্মসূচীতে নেতা-কর্মীর উপস্থিতি শুণ্য হবে।
সূত্র অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারির পর থেকে বরিশাল জেলা ও মহানগর ২০ দলীয় প্রায় সকল নেতাকর্মীরাই পুলিশের দেয়া নাশকতা মামলায় আসামী হয়েছেন। পালিয়ে থেকে মোটামুটি রক্ষা পেলেও হাজতে আছেন অনেকেই। ঈদের আগ মূহুর্তে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা ওই সকল নেতকর্মীরা ঈদের পরেই পড়েছেন সাবেক ঝামেলায়। আন্দোলনের প্রস্তুতিতো দূরের কথা উল্টো পড়েছেন গ্রেপ্তার আতংকে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান গ্রেপ্তার হয় পটুয়াখালীতে ইয়াবাসহ। ওই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবরে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হাফিজ উদ্দিন বাবলু আগের গাড়ি ভাংচুর মামলায় গ্রেপ্তারের পর জেল হাজতে রয়েছেন। মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন অল্পের জন্য বেঁচে পালিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকার বিরোধী অবরোধ চলাকালে পুলিশের করা পৃথক ৩ মামলায় বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান প্রিন্স সহ বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পৃথক ৩ মামলায় ২৭ জুলাই তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলে পাঠানো হয়েছে। ঠিক এর পরের দিন মঙ্গলবার ভোলার নাশকতার ৩ মামলায় জেলা যুবদল সভাপতি ইয়ারুল আলম লিটনসহ ৩১ নেতাকর্মীকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। একই দিন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সম্পাদক গোলাম মাহমুদ ওরফে মাহাবুব মাষ্টারসহ ২০ দলীয় জোটের ১১ নেতাকর্মীকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় তাদের জেলে পাঠানো হয়।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান বলেন, কে কোথায় কি করছে তার খবর নেই। বিনা কারনে নিরীহ লোকজনকে মামলায় আসামী করা হচ্ছে। এমন জুলুম নির্যাতন মানুষের মধ্যে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে। কোথাও কোন মানুষকে জুলুম নির্যাতন করে দাবিয়ে রাখা যায়নি।