তিন ঘাটের ইজারা গুছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যুব ও শ্রমিক লীগের নামে নগরীর তিনটি ঘাট ইজারা গুছ প্রক্রিয়ায় বাগিয়ে নিয়েছে ছাত্রলীগের জেলা সম্পাদক। গতকাল মঙ্গলবার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সন্ত্রাসীদের নিয়ে দিনভর নৌ বন্দরে অবস্থান নিয়ে সাধারন ঠিকাদারদের ইজারার দরপত্র জমা দিতে বাধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বন্দর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সাধারন ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, নগরীর আধুনিক নৌ বন্দরের একতলা এবং দ্বিতল লঞ্চ ঘাট এবং পাশের মাছ ঘাট সহ ২৫টি ঘাটের ইজারা আহবান করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার ছিলো দরপত্র জমা এবং দাখিলের শেষ দিনে। কিন্তু দরপত্র ইজারা আহবানের পর নগরীর তিনটি ঘাট গুছ প্রক্রিয়ায় নেয়ার পায়তারা শুরু করে স্থানীয় শ্রমিক ও যুবলীগ নেতা। এর মধ্যে যুবলীগ নেতা মাছ ঘাট এবং শ্রমিক লীগ নেতা নৌ বন্দরের দুটি ঘাট দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় দরপত্র জমা দেয়ার দিন সকাল ৮টা থেকে নৌ বন্দরে অবস্থান নেয় জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। সে নৌ-বন্দরের প্রতিটি গেটে ভাড়ায় আনা নেতা-কর্মীদের দাড় করিয়ে দেয়। রাজ্জাক বাহিনীর বাধায় কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে সাহস পায়নি। কয়েকজন ঠিকাদার বাধা উপেক্ষা করে বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজরা। ফলে এ নিয়ে নৌ-বন্দর এলাকায় তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগের বাধায় কেউ ইজারা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।
ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন, বন্দরের ঘাট দখল করে দিতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও তার বাহিনীকে মোটা অংকের বিনিময়ে গুছ করেছে যুবলীগ নেতা। এজন্যই ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে টেন্ডার সন্ত্রাসী চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইজারা কোটেশন থেকে বঞ্ছিত ঠিকাদাররা।
আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি কোন প্রকার টেন্ডারবাজী, কাউকে দরপত্র জমা দিতে বাধা বা কারো পক্ষ নিয়ে কাজ গুছ করতে বন্দরে যাননি। ব্যাক্তিগত কাজে তিনি নৌ- বন্দরে যায়।
অপর ছাত্রলীগে নেতা শেখর দাস ও সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, শ্রমিক লীগ নেতা পরিমল চন্দ্র দাস ইজারা দরপত্র জমা দিয়েছেন। এজন্য তার সাথেই তারা নৌ-বন্দর ভবনে এসেছেন। তাবে কাউকে তারা বাধা প্রদান করেনি। শান্তিপূর্ন ভাবেই সবাই ইজারা দরপত্র জমা দিয়েছে।
দরপত্র জমা দানে বাধা এবং কাজ গুছের অভিযোগের বিষয়ে মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, তারা বন্দরের বড় ঘাটটি ইজারা পেতে চেষ্টা করছেন। তবে কাউকে বাধা দিয়ে নয়। তিনি বলেন, বরিশালে বাধা দিয়ে কোন লাভ নেই। কারন বরিশালের বাইরে ঢাকায়ও তিন স্থানে দরপত্র জমা নেয়া হয়েছে। এখানে বাধা দিলেও ঢাকা গিয়ে বাধা দেয়া সম্ভব নয়। আর তাই চাইলেই গুছ করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআইডবি¬উটিএ’র বরিশাল বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান পরিবর্তনকে জানান, ইজারা দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি। সকাল থেকে পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবেই দরপত্র বিক্রি এবং জমা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, দরপত্র জমা দানের পর তা যাচাই বাছাই করা হয়েছে। মাছ ঘাটের জন্য যুবলীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং ১ ও ২য় তলা লঞ্চঘাট ইজারার বিপরীতে ৭৫ লাখ টাকায় ও ৯৬ লাখ দর দিয়ে নির্ধারিত হয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতা পরিমল চন্দ্র দাস। তবে ঢাকার বিষয়টি তাদের জানা নেই। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত দেয়া হবে বলে জানান বরিশাল বন্দরের এই কর্মকর্তা।