তাপদাহ আরও দু’দিন, এরপর বৃষ্টি

বিডিনিউজ ॥ আরও দুয়েকদিন সহ্য করতে হবে তাপদাহ। এর পরই বৃষ্টির দেখা মেলার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, তাদের হিসেবে এবার আষাঢ়ের শুরু থেকে আকাশে ভাসবে ঘন কালো মেঘ। বৃষ্টির ধারায় কমবে প্রকৃতির উত্তাপ। তবে আরও কয়েকদিন গরমের দাপট থাকবে; ভ্যাপসা গরম ক্লান্ত করবে জনজীবন। ইতোমধ্যে কক্সবাজার-কুতুবদিয়া-টেকনাফ, চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ ও সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে। এ সময়ের মধ্যে টেকনাফে সর্বোচ্চ ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনও রাজধানী ঢাকাসহ ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, সৈয়দপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলসহ খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সোমবার যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এ তাপদাহ আর দুয়েকদিন থাকবে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। তিনি বলেন, “আর দু’দিন তাপপ্রবাহ সহ্য করতে হতে পারে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের মধ্যভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। এতে বৃষ্টি হবে বিস্তীর্ণ এলাকায়। তীব্র গরমের অস্বস্তিও কমবে।” এ কর্মকর্তা জানান, গত ২৪ ঘণ্টার হিসেবে বাতাসে আর্দ্রতা রয়েছে ৮৩ শতাংশ। এমন আবহাওয়ায় শরীরে ঘাম বেশি ঝরায়, গরমও অনুভূত হয় অস্বস্তিকরভাবে। বুধবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের বিষয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহ আলম জানান, এ মাসের প্রথমার্ধে সারাদেশে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) বিস্তার লাভ করতে পারে। মাসের শেষার্ধে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।