তরুনীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাতভর নির্যাতনকারী প্রেমিক সহ গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে নগরীর রূপাতলী এলাকায় তরুনীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের আলোচিত ঘটনায় প্রেমিকসহ দুই নির্যাতনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গতকাল শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নগরীর দক্ষিন রুপাতলীর ইউনুস কন্ট্রাকটরের বাড়ীর আলতাফউদ্দিন শানু হাওলাদারের ছেলে প্রেমিক মো. শাহাদাত উদ্দিন মিথুন, প্রতিবেশি মাসুম খা ও রফিক আকন।
তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে  মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। কমিশনার মো. সামসুদ্দিন জানান, এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রেমিকের বাবা আলতাফউদ্দিন শানু হাওলাদার ও মা হোসনেয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, গত সোমবার প্রেমিকা ষোড়শী বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউপির কাকুরিয়া গ্রামের চুন্নু আকনের কন্যা রিপা আক্তারকে কৌশলে বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরে রাতে বৈদ্যুতিক খাম্বা ও সুপারি গাছের সাথে শিকল এবং রশি দিয়ে বেধে রাত থেকে ১০ ঘন্টা প্রেমিক শাহাদাতউদ্দিন মিথুন, তার বাবা আলতাফউদ্দিন শানু হাওলাদার, মা হোসনেয়ারা বেগম প্রতিবেশি মাসুম খা ও রফিক আকন নির্যাতন করে। পরদিন স্থানীয় কাউন্সিলর ফিরোজ আহম্মেদ ও পুলিশ শিকল এবং রশি দিয়ে দুই হাত বাধা অবস্থায় রিপাকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রেমিক শাহাদাত উদ্দিন মিথুন এবং গ্রেপ্তারকৃত অর দুই নির্যাতনকারী সটকে পড়ে। এই ঘটনায় তরুনী নিজে বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শ্লীতহানি ও শ্লীতাহনিতে সহায়তা করা এবং আটকে রাখার অভিযোগে করা মামলার আসামী হিসেবে মা হোসনেয়ারা বেগম ও বাবা শানু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই খবর পেয়ে ঘটনার প্রধান নায়ক প্রেমিক ও তার দুই সহযোগী আত্মগোপনে  যায়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আব্দুর রউফের নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার মাহামুদ হাসান ও উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন শেখ সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। এই দল তিনজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে। দলটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ধান পায়। সেই অনুযায়ী দলটি শনিবার সকালে পটুয়াখালীতে অভিযান করে। সেখান থেকে প্রেমিক মো. শাহাদাত উদ্দিন মিথুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দলটি নলছিটি থেকে মোঃ মাসুম খাঁ ও মোঃ রফিক আকনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রায় ১ বছর পূর্বে মিথুনের সাথে রিপা আক্তারের প্রেম হয়। মিথুনের পরিবার তাদের প্রেম মেনে না নিয়ে ছেলেক গাজীপুরে পাঠিয়ে দেয়। কিছুদিন পরে মিথুন তরুনীকে গাজীপুরে নিয়ে যায়। সেখানে ৮/১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষন করে। মিঠুনকে বিয়ের চাপ দিলে নানা ছলছাতুরী করে রিপাকে তার বন্ধুদের হাতে তুলে দেয়। গত ২ জুন জয়দেবপুর থানা পুলিশ রিপাকে উদ্ধার এবং মিঠুকে গ্রেপ্তার করে। ওই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জামিনে বের হয় সে। রিপাকে তার মা সেইভ হোম থেকে নিয়ে আসে। গত সোমবার সকালে সমঝোতার কথা বলে মিঠুনের বাবা শানু হাওলাদার রিপার কৌশলে বাড়ি নিয়ে আসে। বাড়ীতে পৌঁছামাত্র কোন কথা না বলেই শানু হাওলাদার মামলা তুলে নেবে কিনা জানতে চায়। এতে রিপা অপরাগত জানালে তাকে রাত ১০টার দিকে দুটি গাছের সাথে রশি দিয়ে দুই হাত এবং শিকল দিয়ে কোমড় বেঁেধ রাখে বৈদ্যুতিক খাম্বার সাথে। এ সময় নানা কথার প্রেক্ষিতে তাকে দফায় দফায় নির্যাতন করে তারা।
রিপার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা কৌতুহল নিয়ে রাত ভর তার করুন পরিনতি দেখলেও কেউ তাকে সাহায্য কিংবা বাঁধন খুলে দিতে এগিয়ে আসেনি। ওই বাড়ির মধ্যে এবং আশপাশে অন্তত ১৫টি পরিবার বসবাস করে।