তরুণের শখ পৃষ্ঠপোষকতায় হবে সম্পদ

জুবায়ের হোসেন॥ খেলার ছলে এই নগরীর এক তরুন তৈরি করেছে রোবট। শুধু রোবট নয়, নানা ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য তৈরি করেছে সে। খেলার ছলে এসব তৈরি করা এখন তার শখে পরিনত হয়েছে। এই শখ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সম্পদে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তানভীর কিবরিয়া রাকিব (২২) নামের ঐ তরুন। নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দা আমতলা জুমির খান সড়কের বাসিন্দা এবং ইনফ্রা পলিটেকনিক ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের ছাত্র রাকিব ছোট বেলা থেকেই ঘরের অপ্রয়োজনীয় ধাতব ও ইলেক্ট্রনিক্সের পরিত্যক্ত হওয়া অংশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী পন্য তৈরি করে। সে তৈরি করেছে ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্যান, বিভিন্ন ডিজাইনের টেবিল ল্যাম্প, মিনি আইপিএস, মিনি রেডিও নেটওয়ার্কিং টাওয়ার, খেলনা মোটর চালিত জাহাজ ও গাড়ি যা রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রন করা হয়, বিমান যা একটি নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে উড়তে সক্ষম। তবে এগুলো সবই সে ফেলে দেয়া ধাতব ও ইলেক্ট্রনিক্সের পন্য দিয়ে তৈরি করেছে। আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছে রোবট। এই রোবটটি কথা বলা, মাথা ও হাত নাড়ানো এবং হাটতেও পারে। রোবটটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে এ্যালুমিনিয়াম পাইপ ও প্লেন শিট। শরীরের গঠন এ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি, মাথা প্লেন শিট করা হয়েছে। চোখের স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি লাইট, যা কথা বলার সাথে একতালে জ্বলে নেভে। রাকিবের তৈরি রোবটের হাত ও মাথা নাড়ানোর জন্য লম্বা স্ক্রু ও তার বুদ্ধি ব্যবহার করেছে। যা খুব সহজেই রোবটের মাথা হাত নাড়াতে সাহায্য করে। একটি নির্দিস্ট মাপের পায়ের সাথে চাকা যুক্ত করায় হাটতে পারে এবং রোবটের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।  এই রোবট কথা বলতেও পারে।  এর জন্য ব্যবহার করেছে টকিং সফটওয়ার যা নির্দেশনা অনুযায়ি কাজ করে। এই সফটওয়ার চলে একটি মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে যা স্পিকার এর সাথে রোবটটির মাথায় বসানো আছে। সখে তৈরি করা এই রোবটের মালিক রাকিব এর সাথে কথা বললে সে জানায়, ছোট বেলা থেকেই এমন সব জিনিস তৈরি করতে ভাল লাগে তার। সবই তৈরি করেছি পরিত্যক্ত ধাতব ও ইলেকট্রনিক্স পন্য দিয়ে। অনেক কিছুই তৈরি করতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু সবকিছু তো পরিত্যক্ত ধাতব ও ইলেকট্রনিক্স পন্য দিয়ে তৈরি সম্ভব না। এখন হয়ত পারছি না তবে সামর্থ্য হলে ভবিষ্যতে চেষ্টা করব।