তজুমদ্দিনে আ’লীগের দু’ গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১০

শরীফ আল আমীন, তজুমদ্দিন॥ ভোলার তজুমদ্দিনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ৩ জনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার হাফেজ ও নুরে আলম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরোধ চলে আসছিলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বেলা ১২ টার দিকে নুরে আলমের বাড়ির পাশে শফিক মাঝি ও তার ভাগ্নে নাগর মাঝির মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঝগড়া হয়। এ সময় হাফেজ গ্রুপের মোঃ সফিক ওরফে সেকু ঝগড়া থামাতে গেলে নুরে আলম গ্রুপের নুরে আলমের নেতৃত্বে শাজাহান, নাসিম সিকদার, সাইদ মাঝি, ইউনুছ, ভূট্টো, শিপন ডাকাত, ও মিজান তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। পরে হাফেজ গ্রুপের অন্য সদস্যরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উভয় গ্রুপের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় হাফেজ গ্রুপের মোঃ আঃ মন্নান (৬৫), রবিউল হক (৬০) ও সফিক (২৩), এবং নুরে আলম গ্রুপের নুরনবী (২৫) ও নুরে আলমের মা বিবি ছালেকা (৪৫) সহ ১০জন আহত হয়েছে।
আহতদের তজুমদ্দিন হাসপাতালে নেয়া হলে তাদের মধ্যে থেকে আঃ মন্নানকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। বাকি চারজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়েছে। নিহতের ছেলে আব্বাছ মাঝি বাদী হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে আঃ মন্নানের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাফেজ গ্রুপের লোকজন পুনরায় হামলা চালিয়ে নুরে আলম গ্রুপের নুরে আলম, তার শ্বশুর বেলায়েত মাঝি ও শরীফের বসত ঘর ভাংচুর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এছাড়া জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।