ঢাকা-বরিশাল রুটের কালাম খান লঞ্চের চলাচলের অনুমতি স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সঠিক নকশা, উচ্চতা, নিয়ন্ত্রনের সমস্যার জন্য ঘাট ত্যাগ করার ৩০ মিনিট পূর্বে ঢাকা-বরিশাল রুটের এমভি কালাম খান-১ লঞ্চের চলাচলের অনুমতি স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটিএ। গতকাল বুধবার আটটার সময় বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক এবং অভ্যন্তরীন নৌযান রেজিষ্ট্রারের পত্র পেয়ে বরিশাল নদী বন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল বাসার মজুমদার লঞ্চের যাত্রা বাতিল করেন। এই সময় লঞ্চ থেকে প্রশাসনের সহযোগিতায় লঞ্চের প্রায় ৭০০ যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়। হঠাৎ করেই এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কালাম খান -১ কর্তৃপক্ষ। আর এতে বিপাকে পড়ে লঞ্চের যাত্রীরা।
এমভি কালাম খান-১ এর সুপার ভাইজার মোস্তাক আহম্মেদ ও সহকারি সুপার ভাইজার মহিউদ্দিন জানান, নকশা, উচ্চতা ও নিয়ন্ত্রনের সমস্যা থাকায় লঞ্চ চলাচল ৬ মাস বন্ধ ছিল। সংস্কারের জন্য সময় চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চলাচলের অনুমতি পেয়েছেন। এই সময়সীমা আরো ৪৫ দিন বাকি আছে। এছাড়াও লঞ্চটি ৩ মাস ধরে যথা নিয়মের চলছে। কিন্তু হঠাৎ করে লঞ্চ ছাড়ার আগ মূহুর্তে বিআইডব্লিউটিএ’র লোকজন পুলিশ নিয়ে এসে যাত্রী নিয়ে যাত্রা ঝুকিপূর্ন জানিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেয়। তারা অভিযোগ করে বলে, এটি বিআইডব্লিউটিএর গায়ের জোরে করা কাজ। সারাদিন টিকিট বিক্রি করে এখন যাত্রীদের নেমে যেতে বলে বিপাকে পড়েছেন তারা। পরে ডেকের যাত্রী নামিয়ে লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিড়ম্বনার শিকার লঞ্চে ঢাকা গমনের উদ্দেশ্যে যাত্রী হিসেবে আসা পটুয়াখালী এলাকার বাসিন্দা এনায়েত শেখ জানান, কিছুই বুঝতে পারেননি তারা। হঠাৎই পুলিশ এসে নেমে যেতে বলল। টিকিট কিনে লঞ্চে উঠেছেন। টিকেটের টাকা ফেরত পেয়েছেন বটে তবে এমন সময় নেমে যেতে হচ্ছে এখন আর অন্য লঞ্চে টিকিট পাবেন না। তাই এমন বিড়ম্বনার জন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটি কে সমান দোষি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাৎক্ষনিক এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর এর নৌ-নিরপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল বাসার মজুমদার জানান, আগে তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। সঠিক নকশা, উচ্চতা ও নিয়ন্ত্রনের সমস্যা থাকায় এমভি কালাম খান-১ এর রুট পারমিট বাতিল করে চলাচল স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় স্থগিত আদেশের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তা কার্যকর করা হয়েছে। ১৮ মে নৌযানটি জরিপ করে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। নৌযানটিতে এখন স্থায়ীভাবে সলিড ব্যালট সংযোজন করে প্রতিবেদন দাখিল এবং বিভিন্ন ডেকের উচ্চতা নকশা অনুযায়ী সংশোধন না করার চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি মনে হওয়ায় নৌ-নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ বলেন জানিয়েছেন তিনি।