ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রচারণার মাঠে দক্ষিণের এক ডজন মেয়র-সাংসদ

পুলক চ্যাটার্জি, অতিথি প্রতিবেদক ॥ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকী। সোমবার রাত পোহালেই মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের আলোচিত ৩ সিটি করপোরেশনের ভোট উৎসব শুরু হবে। স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন হলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সুত্রগুলো বলেছে, তিন সিটি নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য মর্যাদা রক্ষার চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে বিএনপির কাছে জনপ্রিয়তা প্রমাণের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে বড় দু’দলের বিভিল্পু এলাকার নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় চষে বেড়াচ্ছেন ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রামের নির্বাচনী মাঠ।
সহৃত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের চেয়ে চট্টগ্রামে বিজয়ী হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। আর তাই গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে সেখানে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিরা। দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আজম নাসির উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার সমন্বয়ক হিসেবে গত ১৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। তার সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, পটুয়াখালীর বাউফলের মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল, মুলাদীর পৌর মেয়র শফিকউজ্জামান রুবেল, মেহেন্দিগঞ্জের পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খান, আমতলীর পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, বাকেরগঞ্জের পৌর মেয়র লোকমান ডাকুয়া ও গৌরনদীর পৌর মেয়র হারিছুর রহমান। দক্ষিণের এ জনপ্রতিনিধিরা প্রতিদিন চষে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের অলিগলি। গতকাল বৃহ¯ক্সতিবার চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপিকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণের ওই ৭ মেয়র প্রচার-প্রচারণা চালান বহদ্দার হাট এলাকা ও কাষ্টমস হাউজে। অংশ নেন বিভিল্পু পথসভায়। বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় জামান কমিউনিটি হলে আ.জ.ম নাসির উদ্দিনের পক্ষে চট্টগ্রামস্ট’ বাউফল সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় প্রচার সভা। বাউফলের মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল জানান, বাউফল সমিতির সভাপতি নুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই প্রচার সভায় বৃহত্তর বরিশালের বিভিল্পু জেলা সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বানারীপাড়ার মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, স্থানীয় নেতা মোঃ শাহাবুদ্দিন, আমতলীর মেয়র মতিয়ার রহমান প্রমুখ। বানারীপাড়ার মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান, চট্টগ্রামে বসবাসকারী বরিশালের বাসিন্দারা দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের কাছে পেয়ে দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে আজম নাসিরের হাতি প্রতীকের পক্ষে কাজ করছেন।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বরিশাল অঞ্চলের বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা। বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤ক্সাদক সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার, যুবদলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান, সাধারণ স¤ক্সাদক আবুল কালাম শাহিন, বরিশাল উত্তর বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, সাধারণ স¤ক্সাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কলাপাড়ার এবিএম মোশাররফ, ঝালকাঠী জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি মিঞা আহম্মেদ কিবরিয়া, পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ স¤ক্সাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন নিয়মিত মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি’র সাধারণ স¤ক্সাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ২৮ এপ্রিলের নির্বাচন বিএনপি কাছে অস্তিত্ব লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলা-হামলা এবং গ্রেফতারের ভয় মাথায় নিয়েই আমরা বিজয়ী হতে মাঠে কাজ করছি। আসল্পু ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হলে তা বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের রাজনীতির জন্য হবে অনেক বড় প্রাপ্তি।
অপরদিকে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন সাংসদ একেএমএ আউয়াল, তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি, পংকজ দেবনাথ এমপি, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক বলরাম পোদ্দার এবং নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি। তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি বলেন, বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের সাংসদ ও দলীয় নেতারা পৃথক টিম গঠন করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন।