ডিবির হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রকাশ্যে আত্মহত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মেট্রো ডিবি পুলিশের হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নগরীর বেলতলা খেয়াঘাটের বাসিন্দা মাসুদ হাওলাদার আত্মহত্যার হুমকি দেয়। সে ওই এলাকার হারুন হাওলাদারের ছেলে। মাসুদ জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে তিনি বরিশালের বাসায় আসেন। সকাল ১০টার দিকে ডিবি পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করে। এরপর প্রতিটি কক্ষে তল্লাশী চালায়। বিষয়টি টের পেলে মাসুদ যে রুমে ঘুমিয়ে ছিল সে রুমের দরজা আটকে দেয়। ডিবি পুলিশ ওই কক্ষের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা চালায় এবং দরজার ফাঁক দিয়ে মাসুদকে তাদের সাথে থাকা ইয়াবার প্যাকেট দেখায়। ওই ইয়াবা দিয়ে তাকে আটকের ভয়ভীতি দেখালে মাসুদ তার কক্ষে রক্ষিত চাকু হাতে নেয়। এরপর ডিবি’র উদ্দেশ্যে মাসুদ বলে তাকে আটক করলে সে আত্মহত্যা করবে। মাসুদ স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে মোবাইলে খবর দেয়। এরপর সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাইনুল ইসলাম সহ একাধিক ব্যক্তি। এ সময় কক্ষের দরজা না খুলে জানালা দিয়ে মাসুদ তাদেরকে জানান ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশের এসআই লোকমান তার ঘরে অভিযান চালায়। কোন কিছু না পেলেও তার অভিভাবকের সামনে বেদম মারধর করে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। স্থানীয়রা দেখে ফেলায় লোকমান তাকে ধরে নিয়ে দূরবর্তী স্থানে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে কিছুদিন বরিশালের বাইরে থাকার নির্দেশ দেন। ওই নির্যাতনের ব্যাথা তার শরীর থেকে এখনো যায়নি। লোকমান বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানায় কর্মরত রয়েছে। ডিবি পুলিশ আবারো একই ফাঁদে ফেলতে আমার বাসায় অভিযান চালায়। আমাকে ধরতে পারলে ইয়াবা দিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালাতো। ওদের হাতে শারীরিক নির্যাতন হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল বলে জানান মাসুদ। এর পূর্বে তার সাথে শত্রুতা থাকা এক ব্যক্তি অপর একটি আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে তাকে ধরিয়ে দিয়েছিল। ওই সময় তার পকেটে হেরোইন দেয়া হয়। মাসুদ সাংবাদিকদের জানায়, সে ট্রলার ও জ্বালানী কাঠের ব্যবসা করে। সে কোন সময় মাদক ব্যবসায়ী ছিলো না। কিন্তু ডিবি পুলিশ তাকে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। শেষ পর্যন্ত কক্ষ না খোলায় ডিবি পুলিশ ওই স্থান ত্যাগ করে। ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার ভাস্কর সাহা মাসুদের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে জানান, মাসুদ ওই এলাকার বড় ধরনের মাদক ব্যবসায়ী। বিষয়টি এলাকাবাসীও অবগত আছে। উল্লেখ্য ডিবি পুলিশ থেকে শুরু করে কোতোয়ালী থানা, এয়ারপোর্ট থানা ও কাউনিয়া পুলিশ, ফাড়ি পুলিশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে যুবকদের শারীরিক নির্যাতন এবং হয়রানির অভিযোগ প্রতিনিয়ত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে আবারো ওই নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি চেপে
রাখেন।