ডিবি’র দুই দারোগার দ্বন্দ্বে বিপাকে সোর্সরা

রুবেল খান॥ বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মধ্যে শুরু হয়েছে আধিপত্যের লড়াই। আর লড়াইয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন তাদের সোর্স। ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে গত রোববার রাতে নগরীর কাশিপুর এলাকায়। এ সময় ডিবির উপ-পরিদর্শক চিন্ময় মিত্রর সোর্সকে মারধর ও ফেন্সিডিল দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপ-পরিদর্শক গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, একটা সময় গোয়েন্দা পুলিশের মধ্যে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসান কবির। তবে সম্প্রতি কোতয়ালী মডেল থানা থেকে বদলি হয়ে গোয়েন্দা পুলিশে যুক্ত হন উপ-পরিদর্শক (এসআই) চিন্ময় মিত্র। তার গোয়েন্দা পুলিশে যোগদানের পর পরই এসআই আহসান কবিরের একা আধিপত্যে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়। সেই সাথে গোয়েন্দা পুলিশের মধ্যে সৃষ্টি হয় আহসান কবির এবং চিন্ময় মিত্র কোড়ামের। তবে কোড়াম করে চিন্ময় মিত্রর সাথে পেরে উঠছিলোনা আহসান কবির। এজন্য তাদের বিরোধ এখন ছড়িয়ে পড়েছে নিজেদের সোর্সদের মধ্যে। আটক এবং উদ্ধার অভিযানে দু’জন এড়িয়ে যাওয়ায় একজন আটক করেছেন আরেক জনের সোর্সকে। গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রগুলো আরো জানায়, নগরীর কাশিপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী রনি গোয়েন্দা পুলিশের এসআই চিন্ময় মিত্রর একজন সক্রিয় সোর্স। এজন্য গত রোববার রাতে এসআই গোলাম কবির তার সোর্স বাংলাবাজার নূরিয়া স্কুল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মামুন ওরফে সোহাগের সহযোগীতায় আটক করে চিন্ময় মিত্রর সোর্স ফিশারী রোডের রনি চৌধুরীকে। এ সময় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে রনি তার ও বাবা কামাল চৌধুরীকে ব্যাপক মারধরের পর সোহাগের কাছ থেকে ১১ বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে আটক করা হয়। পাশাপাশি ডিবি সদস্যদের উপরে হামলা এবং কামড়ে আহত করার নাটক সাজানো হয়েছে বলেও গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এমনকি এ ঘটনায় আহসান কবির বাদী হয়ে মাদক ব্যবসায়ী রনি ও তার বাবা কামালের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় দুটি মামলা করেছেন। এর মধ্যে একটি পুলিশ এ্যাসাল্ট অপরটি মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে করা হয়েছে। এ মামলায় গতকাল দু’জনকেই জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে গতকাল মাদকের সোর্স রনি এবং তার বাবাকে ছাড়াতে আদালতের বারান্দায় ঘোরাফেরা এবং তদবির করতে দেখাগেছে চিন্ময় মিত্রকে। এদিকে ডিবি পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, রোববারের রাতের ঘটনার পর অনেকটা ক্ষিপ্ত হযেছেন এসআই চিন্ময় মিত্র। তারই অংশ হিসেবে রোববার রাত থেকে গতকাল সোমবার রাত পর্যন্ত এসআই আহসান কবিরের সোর্স হত্যা মামলার আসামী নূরিয়া স্কুল এলাকার মামুন ওরফে সোহাগকে আটক করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহসান কবিরের সোর্স এবং রোববার রাতের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মামুন ওরফে সোহাগকে আটক করতে পারেনি চিন্ময় মিত্র। এ নিয়ে দু’উপ-পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে পুলিশ এ্যাসাল্ট, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও মাদক মামলায় কামাল ও রনিকে আদালত জেলে পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করেন এসআই গোলাম কবির।