ডিবির এসআই নূর আলমের স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিজ ভাড়া বাসা থেকে মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এসআই নূর আলম এর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে বিমানবন্দর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার পরবর্তী ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেন। নিহত গৃহবধূর নাম মুনিয়া বেগম (২৫)।
এদিকে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হলেও আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। ফলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে পারিবারিক কলহ এবং নির্যাতনের ঘটনা থেকেই মুনিরা বেগম আত্মহত্যা করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে নির্যাতনের কিছু আলামতও রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র আভাস দিয়েছেন।
মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নগরীর কাশিপুর এলাকায় আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন ভূইয়া বাড়ি এলাকায় এসআই নূর আলম এর ভাড়া বাসায় যান তারা। সেখানে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকা ঘরের মধ্যে নুর আলম এর স্ত্রীকে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ দেখতে পান তারা। পরে সুরতহাল শেষে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়।
ওসি জানান, আপাতত যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তাতে করে পারিবারিক কলোহের জের ধরেই গৃহবধূ মুনিরা আত্মহত্যা করেছে বলে বোঝা যাচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারন বলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন তারা। এজন্য গৃহবধূর স্বামী ডিবি পুলিশের এসআই নূর আলমকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের স্ত্রীর রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুর খবর পেয়ে ওসি ছাড়াও ঘটনাস্থলে ছুটে যান নগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় তারা নিহত গৃহবধূর স্বামী ডিবির এসআই নূর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নূর আলম এর কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছেন তাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়েই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
অপরদিকে নূর আলম এর ভাড়া বাসার আশ পাশের বাসিন্দারা জানান, নূর আলম এর স্ত্রী উগ্র স্বভাবের ছিলো। এমনকি এসআই নূর আলম নিজেও ছিলেন একরোখা। যে কারনে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া এবং মারধরের ঘটনাও ঘটত। তাছাড়া গত কয়েকদিন যাবত তাদের মধ্যে ঝগড়া ঝাটি লেগেই ছিলো বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে সম্পর্কে সু-নির্দিষ্ট ভাবে কেউ কিছু জানাতে পারেনি।