ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারে জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়েছে -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এনইউ সোহাগ, কলাপাড়া ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে অবহেলীত দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কুয়াকাটাকে আগে কেউ চিনতো না। এখানে দাড়িয়ে সাগরের ভিতর থেকে সূর্য্যদয় ও অস্তের বিড়ল দৃশ্য দেখা যায়। এখানে এসে বৈশাখী পূর্ণিমার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার স্বপ্ন ছিলো আমার। তখন কুয়াকাটায় একটিমাত্র সরকারি একতলা ভবন ছিলো। যখন কুয়াকাটায় আসলাম ঝড়-ঝঞ্জার কারনে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সে স্বপ্ন পুরোন হলো না। অবহেলীত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সবসময় অবহেলিত ছিলো। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বরিশাল,পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবন যাত্রাম মান উন্নত হয়েছে। সাবমেরীন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হলে মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে। কলাপাড়ায় তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা নির্মান করা হয়েছে। সড়ক উন্নয় করা হয়েছে। রেল লাইন এই অঞ্চলের মানুষ চোখে দেখেনি। পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল লাইন সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। সমগ্র বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল তখন আওয়ামী লীগ সরকার থাকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতীর ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু ৭.২৪প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করেছি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের গোরাআমখোলা পাড়ায় নির্মিত দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম রবিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী তারানা হালিম। স্থানীয় সরকার পল্লীয় উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সখন্দকার মোশারফ হোসেন। গোরাআমখলা পাড়ার সাবমেরীন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, সাবেক ধর্ম প্রতিমনন্ত্রী এ্যাডভোকেট শাজাহান মিয়া, ডাক ও টেলী যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সচিব শামসুল হুদা শিকদার, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান, দূর্গম রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে আগত মো. আবুল কালাম বয়াতীয়, মোসাঃ মুকুল বেগম, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের ইউনিয়ন তথ্য সেবার উদ্যোক্তা মো. মঞ্জুরুল আলম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সাব মেরীন ক্যাবল কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন, মহা ব্যবস্থাপক মো. মশিউর রহমান, বিএসসিসিএল এর প্রকল্প পরিচালক (সিমিউই-৫) পারভেজ মনোন আশ্রাফ, পটুয়াখালী জেলা পরিশদের চেয়ারম্যান খান মোশারফ হোসেন।এছাড়া পটুয়াখালী ও কলাপাড়া উপজেলার সকরকারি, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী এসময় রাঙ্গাবালী উপজেলার আট কোটি টাকা ব্যায়ে নব নির্মিত উপজেলা পরিষদের ভবন, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ ভবনে সম্প্রসারিত কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, টিয়াখালী নদীর ওপর নির্মিত পায়রা সমুদ্র বন্দর ও তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের সংযোগ স্থাপনের ১৭৬ মিটার দৈর্ঘের ব্রিজ উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, এক হাজার ৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইটথ সর্বোচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে সাবরেরিন কেবল কোম্পানী লিমিটেড (বি.এস.সি.সি.এল)। বাংলাদেশ সরকার, বিএসসিসিএল এবং ইসলামী ব্যাংকের ঋনের অর্থায়নে ৬৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে ১০ একর জমির ওপর নির্মান করা হয়েছে এই প্রকল্পটি। অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ব্যান্ডউইটথ রপ্তানীর মাধ্যমে বাংলাদেশ বড় অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প কর্মকর্তাগণ।
প্রকল্প পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন জানায়, ১৯টি দেশের টেলিযোগাযোগ সংস্থার সম্মেলনে গঠিত সাউথইষ্ট এশিয়া-মিডলইষ্ট-ওয়েষ্টার্ন ইউরোপ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের অধীনে এই সাবেমেরিন কেবলটিতে ২০ হাজার কি.মি.ব্যাপী অত্যাধুনিক ১০০ জি আলোক তরঙ্গের ডিডব্লিউএম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জাপানের এনইসি এবং ফ্রান্সের অ্যালকাটেল লুসেন্ট যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ এই সাবমেরিন কেবলটি নির্মান করছে। কুয়াকাটা সৈকত থেকে একটি ব্রাঞ্চের মাধ্যমে মূল কেবলে বাংলাদেশ যুক্ত হয়। মায়ানামারের সঙ্গে ব্রাঞ্চ শেয়ারিংও হবে। এর বাইরে সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান, সৌদিআরব, কাতার, ওমান, জিবুতি, মিশর, তুরস্ক, ইতালী, ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশ এ কেবলে যুক্ত হচ্ছে। এর জন্য সাগরের তলদেশ দিয়ে ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২৫ হাজার কি.মি. দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকার ১৬৬ কোটি টাকা ও বিএসসিসিএল ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করবে। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) প্রকল্পের বাকী প্রায় ৩৫২ কোটি টাকার ঋণসহায়তা প্রদান করেছেন। ন্যাশন ওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটর হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানী লিমিটেডের (বিটিসিএল) কুয়াকাটা থেকে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ব্যান্ডউইটথ পৌঁছানোর জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাকহোল তৈরির করে সংযোগ স্থাপন হয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানী লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কক্্রবাজারের সাবমেরিন কেবল থেকে ২০০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিংস্টেশন থেকে আমরা ভারতে ব্যান্ডউইটথ রপ্তানী করছি। ভারত আরও বাড়াতে চাচ্ছে। নতুন রুট হিসেবে ঢাকা-সিলেট-তামাবিল-শিলং-গৌহাটি-ভূটান পর্যন্ত সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ষ্টেশনটির মাধ্যমে এক হাজার ৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইটথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করবে এ কোম্পানী। এর ফলে দেশীয় টেলিকম কোম্পানিগুলোকেও বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইটথ কিনতে হবে না। বাংলদেশই এখন ‘বেন্ড ইউথ হাব’ এর রূপান্তরিত হয়েছে। এরফলে বাংলাদেশ ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জণ করবে।