ডায়রিয়ায় ২ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দীর্ঘ বছর পর বরিশালে ডায়রীয়া মহামারি আকার ধারন করেছে। এর ফলে ডায়রীয়ায় আক্রান্ত শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড়ি বেড়েছে হাসপাতাল গুলোতে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার এক দিনেই ডায়রীয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু এবং একই পরিবারের ৭ জন অসুস্থ হয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের নলচর গ্রামে এই গটনা ঘটেছে। মৃত্যু শিশুদ্বয় হলো- ঐ গ্রামের সায়েদ জমাদ্দারের ছেলে সজল (৮) ও সোহাগী (১)।
এছাড়া ডায়রীয়ায় অসুস্থ পরিবারের ৭ জনকে বরিশাল শেবাচিম ও সদর হাসপাতালের ডায়রীয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন গৃহকর্তা কৃষক সায়েদ জমাদ্দার (৪০), তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৫), ছেলে জুয়েল (১৫), পাভেল (৫) ও রাহাত (৭) এবং একই গ্রামের সাইদ’র ছেলে তাহের (৬) ও কায়েস (৪)।
এদিকে ডায়রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের ২ শিশুর মৃত্যু হলেও চিকিৎসকদের দাবী ভিন্ন। জেলা সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন ফুট পয়জনিং’র কারনেই শিশু দুটির মৃত্যু এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়েছে। তবে একই পরিবারে ডায়রীয় দুই শিশুর মৃত্যু এবং ৭ জন অসুস্থ’র ঘটনায় গোটা চরমোনাই ও আসপাশের এলাকার মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
ডায়রীয়ায় অসুস্থ গৃহকর্তা সায়েদ জমাদ্দার জানান, দুপুরে তার পরিবারের ৭ জন করলা ভাজি, ডাল এবং লাল শাক দিয়ে ভাত খান। এর কিছুক্ষন পরেই পরিবারের প্রতিটি মানুষের শরীরে জ্বর আসতে শুরু করে। এক পর্যায় জ্বর থেকে মারাক্তক ডায়রীয়ায় রূপ নেয়।
তিনি জানান, পর পর বেশ কয়েকবার ডায়রীয়ার কারনে পরিবারের প্রতিটি সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ৮ বছর বয়সি শিশু সজল অসুস্থ হয়ে পড়ার কিছুক্ষন পরে বাড়িতেই মারা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উদ্ধার করে ট্রলার যোগে চিকিৎসার জন্য বরিশাল সদর ও শেবাচিম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে ট্রলারে বসে ১ বছর বয়সি অপর শিশু সোহাগী’র মৃতু হয়। এছাড়া বাকি বাবা-মা সহ ৫ জনকে শেবাচিম ও সদর হাসপাতালের ডায়রীয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও অনেকটা আশংকা জনক। ২৪ ঘন্টা না যাওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকরা।
চরমোনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইদ জানান, গত রবিবার তার দুই সন্তান ডায়রীয়ায় আক্রান্ত হয়। পরে তাদের দু’জনকেও শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার দুই সন্তানের নাম তাহের ও কায়েস।
এদিকে খবর পেয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. এটিএম মিজানুর রহমান সদর (জেনারেল) হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে অসুস্থদের খোঁজ খবর নেন। এ বিষয়ে আজ সকালে তিনি চরমোনাইর রাজার চর গ্রাম পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
অপর দিকে পরিবারের ২ জনের মৃত্যু এবং ৭ জন অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এটিএম মিজানুর রহমান বলেন, অসুস্থদের সাথে আলাপ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে এটিকে সরাসরি ডায়রীয়া বলা যায় না। মূলত ফুট পয়জনিং এর কারনেই মৃত্যু এবং অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ডায়রিয়া পানি বাহিত রোগ। এজন্য শরীরে জ্বর আশার কোন কারন নেই। খাবারে বিষকৃয়া হলে প্রথমে গায়ে জ্বর এবং পরে ডায়রিয়া হতে পারে। সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মশা, মাছি এবং উড়ন্ত বা বাতাসের সাথে থাকা কিছু জীবানু খাবারের সাথে মিশে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আর এটা লাল শাকে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ থেকেই জ্বর এবং ডায়রীয়ায় মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি। তার পরেও আজ ঘটনাস্থলে গিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।