ট্রাক মালিক শ্রমিকদের হাতে নগরীর আইন উপেক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ট্রাফিক আইন মানছে না নগরীর ট্রাক মালিক শ্রমিকরা। আইন উপেক্ষা করে সকাল-বিকাল-রাত অপ্রতিরোধ্যভাবে চলাচল করছে এসব ট্রাক। বেপরোয়া গতির এই ট্রাক চলাচল বন্ধে নেই কারোর তেমন কোন ভূমিকা। ফলে বাড়ছে সীমাহিন যানজট আর একের পর এক দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই নগরীতে বেড়েছে নিষিদ্ধ সময়ে ট্রাক চলাচল। শহরের ব্যস্তমত সড়ক থেকে শুরু করে প্রতিটি রুটেই দিন রাত ২৪ ঘন্টা অপতিরুদ্ধ গতিতে চলাচল করছে। বিশেষ করে বালু, সিমেন্ট এবং মাটি সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রি নিয়ে চলাচল করছে লোকাল ট্রাক। এর মধ্যে আবার বেশির ভাগ লোকাল ট্রাকের নেই বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্র। পরিচালনাকারী চালকরাও অধ্যক্ষ। প্রধান চালকের অবর্তমানে ট্রাকের হেলপাড়াই ঝুকি নিয়ে ট্রাক চলাচল করছে।
এদিকে এসব লোকাল ট্রাক চলাচলের কারনে নগরীতে বাড়ছে একের পর এক দুর্ঘটনা। চালকদের অদক্ষতার কারনই দুর্ঘটনার প্রধান কারন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া নিয়ন্ত্রনহীনভাবে অবৈধ বালুর ট্রাক চলাচলের কারনে নগরী হারাচ্ছে সৌন্দর্য। ট্রাকের বালু এবং মাটি উড়ে রাস্তায় পড়ে নোংড়া পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীতে ট্রাক সহ কোন প্রকার ভাড়ি যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এই আইন অমান্যকারী যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এমন আইন থাকা সত্ত্বেও নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই নগরীতে লোকাল বালুর ট্রাক চলাচল করছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও পার্সেল সার্ভিসের বিশাল আকারের কার্গোগুলোও চলাচল করছে নগরীর প্রান কেন্দ্রে। কিন্তু এই বিষয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা দেখা যাচ্ছে না। তবে অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক বিভাগ থেকে টোকেন গ্রহন করে শহরের মধ্যেই দিন রাত ২৪ ঘন্টা চলাচল করে বালুর ট্রাক গুলো।
অপরদিকে এক সময় দেখাগেছে, প্রায়াত এমপি শওকত হোসেন হিরন সিটি মেয়র থাকা কালে তিনি নিজেই রাতে অপতিরুদ্ধ বালুর ট্রাক অবৈধ ভাবে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। যে কারনে এক সময় নিয়মের মধ্যে থেকেই ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু তার পরাজয়ের পর থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়নি কোন ভাবেই নজরে নিচ্ছে না। অথচ আইনে রয়েছে নগরীর রাস্তায় ট্রাক বা ভাড়ি যান চলাচলের ক্ষেত্রে অবশ্যই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে।
জানতে চাইলে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক এবং সার্জেন্টদের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন, প্রধান সড়কের আশেপাশে কিছু ট্রাক চোরাগুপ্তাভাবে চলতে পারে। তবে শহরের মধ্যে রাত ১০টার আগে কোন ট্রাক বা ভাড়ি যানবাহন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কেউ আইন ভেঙ্গে ট্রাক বা ভাড়ি যানবাহন নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেগুলোকে আটক এবং জরিমানা সহ মামলা দেয়া হচ্ছে। শহরের বাইরেও মাঝে মধ্যে তারা ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তার পরেও সামনে ঈদ উপলক্ষে নগরীতে অবৈধ ভাবে চলচলকারী ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাফিক বিভাগ।