ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র পার্কিংয়ে বাড়ছে ঝুকি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ হরতাল ও অবরোধে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ নগরীর অভ্যন্তরীন সড়কের পাশে নিরাপত্তাহীনভাবে পাকিং করা ট্রাক বেশি হামলার শিকার হচ্ছে। নগরীতে ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় বাধ্য হয়ে মহাসড়ক-সড়কের রাখতে বাধ্য হওয়ার সুযোগ পুরোপুরি ব্যবহকার করছে পিকেটাররা। এই নগরী ২৪ বছর পূর্বে বিভাগীয় শহরের মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অনেক সুবিধার মধ্যে গুরুত্বপূর্ন ট্রাক টার্মিনালও হয়নি। বর্তমানে ব্যস্ত এই নগরীতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে প্রায় ৩০০/৪০০ ট্রাক। ট্রাক পার্কিং এর কোন নির্ধারিত স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে চালকরা যত্রতত্র রাখে। বর্তমানে তারা চুরি-ছিনতাইকারীদের হামলার চেয়ে বেশি ভীত পেট্রোল বোমা হামলার ভয়ে। দেশের অস্থিতিশীল অবস্থায় গভীর রাতে চড়াও ছিল পিকেটাররা। তাই রাতে চলাচলের নিষেধাজ্ঞাসহ প্রশাসনের প্রহড়ায় চলার নির্দেশনার দেয় সরকার। এতে করে গন্তব্যে পৌছানোর পূর্বে রাতটি থাকতে হয় সড়কের পাশেই। এজন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভাররার সুবিধা মত মহাসড়ক সহ যেকোন স্থানেই করছে পার্কিং। এতে হচ্ছে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা, একইসাথে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। বিষয়গুলোর সত্যতা স্বীকার করলেও ট্রাফিক বিভাগের নেই এ নিয়ে তেমন কোনো মাথা ব্যথা। তাই এখন নিরুপায় হয়ে শহর সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ট্রাকগুলোর চালকদের পার্কিং করতে হচ্ছে। এমনকি মাঝে মধ্যে পার্কিংয়ের বিনিময়ে দিতে হয় স্থানীয় ছিচকে নেতা ও ট্রাফিক পুলিশদের উৎকোচ। ট্রাক চালকদের সাথে আলাপ করলে তারা জানায়, নির্ধারিত স্থানের অভাবে তাদের এমনভাবে পার্কিং করতে হচ্ছে। আর মহাসড়কের পাশে পার্কিং এর জন্য তারাও সন্তুষ্ট নয়। এতে প্রতিবন্ধকতা তো সৃষ্টি হচ্ছেই একইসাথে নিরাপত্তা হীনতায় থাকছে তাদের ট্রাক ও মালামালসহ কোটি টাকার সম্পত্তি। একটু নিরাপত্তার জন্য বেশিরভাগ সময়ই তারা জনবহুল স্থানে পার্কিং এর চেষ্টা করে বলে জানিয়ে আরো জানায়, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই, যদি থাকত তবে তাদের এমনভাবে অন্যের সমস্যার কারন হয়ে প্রাণ ও মালামালের ক্ষতির সংশয়ে থাকতে হতো না। একই সাথে লংঘন করতে হতো না ট্রাফিক আইন। বরিশাল ট্রাক মালিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই একই দায় নিয়ে ঘুরছেন তারা। এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা কোন পদক্ষেপই নেয়নি। তাই নিজেরাই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কাশিপুর হাইস্কুলের সামনে একটি স্থান ট্রাক পাকিংয়ের জন্য উপযুক্ত করে তৈরি করছেন। এখন পর্যন্ত ট্রাক টার্মিনাল এর জন্য কোন বরাদ্দ না আসায় নিজেরাই দখলের ভয়ে সেখানে বালি ফেলে ভরাট করেছেন। ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোঃ সালেহ বলেন, মহাসড়কসহ শহরের অভ্যন্তরে যেখানে সেখানে ট্রাক পাকিংয়ে ট্রাফিক বিভাগে অবশ্যই নেতীবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে করে মহাসড়কে বাস চলাচলে বিঘœ ঘটে। ট্রাক টার্মিনালের বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, প্লানিং কমিশনে ট্রাক টার্মিনালের বিষয়টি পাশ হয়েছে। শীঘ্রই একনেকে উপস্থাপন করা হবে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই ট্রাক টার্মিনালের কাজ শুরু করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।