টোকাই আল-আমিন সাবেক কাউন্সিলরকে হত্যা চেষ্টায় দেশীয় গরু জবাইয়ের ছুরি সহ জনতার হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর সাবেক এক কাউন্সিলরের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করার অভিযোগে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী টোকাই আলামিনকে আটক করে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা। গতকাল সোমবার নগরীর ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ সোবাহানকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে গেলে স্থানীয় জনতা রামদাসহ টোকাই আলামিনকে আটক করে। তবে পালিয়ে গেছে তার সহযোগি আরো তিন টোকাই সন্ত্রাসী।
বিসিসি’র সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা শেখ সোবাহান জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিউ সদর ঘাট এলাকার হকার্স মার্কেট সংলগ্ন মন্টু ওরফে ভাঙ্গারী মন্টুর ছেলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী টোকাই আলামিন তার বাহিনী নিয়ে তার বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে শেখ সোবাহানকে বলে “আমাদের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু চাঁদা নেয়ার জন্য পাঠিয়েছে। চাঁদা না দিলে তোকে জবাই করে হত্যা করব”। এ সময় টোকাই আল আমিন ও শেখ সোবাহানের মধ্যে কাথা কাটাকাটি হয়। তখন এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিয়ে রামদাসহ টোকাই আলামিনকে আটক করে। পুলিশ আসার আগে আল-আমিনকে গনধোলাই দেয় তারা। পুলিশ এলে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়।
মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন শেখ জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে গগনগলিতে সাবেক কাউন্সিলর শেখ সোবাহান’র বাসার সামনে টোকাই আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তার সাথে থাকা একটি দেশীয় গরু জবাই করা  ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ হাবিবুর রহমান টিপুর সাথে আলাপকালে তিনি ভাড়াটে সন্ত্রাসী আল-আমিনের বক্তব্যের বিরোধীতা করে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে তিনি এ নিয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করতে চেয়েছিলেন। এ সময় থানার ওসি টোকাই আলামিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তখন হাবিবুর রহমান টিপু তাকে পাঠায়নি রলে বিষয়টি স্বীকার করে।  পরে টিপুর নাম বাদ দিয়ে অপর এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসী আলামিন। সাবেক কাউন্সিলর সোবাহানকে হত্যা চেষ্টার কারন এবং কার ইন্ধনে করা হয়েছে তা এড়িয়ে গেছে টোকাই আলামিন। তবে শেখ সোবাহানকে হত্যা চেষ্টার মিশনে একই এলাকার সন্ত্রাসী ইউসুব, রহিম ও মমু ছিলো বলে আল-আমিন স্বীকার করেছে।
এদিকে শেখ সোবাহানকে হত্যা চেষ্টা ছাড়াও মাত্র কদিন আগে চরমোনাই ট্রলার ঘাটে অবৈধ ইজারাকে কেন্দ্র করে গগন গলিতে ফিরোজ নামের যুবককে এলোপাথারী কুপিয়ে ৪৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে টোকাই আলামিন ও তার সহযোগী রাসেল, লম্বা সবুজ, মোস্তফা ও কষ্টি সোহেল সহ আরো অনেকে। বর্তমানে ঐ যুবক ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এছাড়াও টোকাই আল-আমিনের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় রয়েছে একাধিক অভিযোগ। করা হয়েছে সাধারন ডায়েরীও। তার পরেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় আলামিনের লাগাম টেনে ধরতে পারেনি কাউনিয়া থানা পুলিশ।
মহানগরীর কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মাহবুবর রহমান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আল-আমিন এর বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় দুটি মামলা রয়েছে। মামলা দুটিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তবে কাউনিয়া থানা ছাড়াও কোতয়ালী থানায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী টোকাই আলামিনের সহযোগি ও তাদের গডফাদারকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।