টেন্ডারবাজি নিয়ে প্রকাশ্যে গুলির চেষ্টাকারী নেতা আটকের পর মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ লটারীর কাজ ভাগাভাগি নিয়ে যুব ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গুলি করার চেষ্টা করেছে ঝালকাঠির বাসন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা। এসময় সাধারণ ঠিকাদারদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়লে রিভালবার সহ আলম নামের আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। তবে লাইসেন্সধারী বৈধ অস্ত্র হওয়ায় আওয়ামী লীগের ঐ নেতাকে ছেড়ে দিয়েছে র‌্যাব। আওয়ামী লীগ নেতা আলম ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ইতোপূর্বে লাইসেন্সধারী অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি করার হুমকি দেয়ায় তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর অনুসারী বিধায় পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ঠিকাদার জানান, বরিশাল সদর এবং ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করে শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়। চারটি নোটিশে ২৮ গ্রুপের এই কাজের দরপত্রের লটারী গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর ভাটারখাল এলাকার শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১২টার পরে লটারী কার্যক্রম চলাকালে ঝালকাঠির বাসন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আলম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলমের সাথে কাজ ভাগাভাগি নিয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ও নূরীয়া স্কুল এলাকার বাসিন্দা চিহ্নিত টেন্ডার সন্ত্রাসী সেজান এবং ১৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সুমনের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে টেন্ডারবাজ ছাত্রলীগ নেতা সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমের গলা টিপে ধরে। ঠিক সেই মূহুর্তে আওয়ামী লীগ নেতা আলম তার কোমড়ে থাকা পিস্তল বের করে সুমনের কপালে ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা করে। তাৎক্ষনিকভাবে শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ে অবস্থানরত র‌্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। একই সাথে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অপরাধে আ’লীগ নেতা আলমকে পিস্তল সহ র‌্যাব সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, টেন্ডার বা লটারী নিয়ে কোন ঝামেলা হয়নি। তবে শুনেছি লটারী চলাকালে আলম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারের সাথে অপর এক ঠিকাদারের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এসময় আলম এন্টারপ্রাইজের ঐ ঠিকাদার নাকি অপর ঠিকাদারকে তার লাইসেন্সধারী পিস্তল ঠেকিয়েছে। পরে তাকে র‌্যাব সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হেসেন বলেন, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের মধ্যে একটি কথা কাটাকাটি হয়েছিলো। এসময় আ’লীগ নেতা আলম তার লাইসেন্সধারী পিস্তল প্রদর্শন করলে র‌্যাব তাকে ধরে নিয়ে যায়। তবে রাত পর্যন্ত তাকে থানায় হস্তান্তর করেনি।
বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মুঠোফোনে জানান, পিস্তলটি বৈধ এবং তার নিজের নামে লাইসেন্স করা কিনা তা নিশ্চিত হতে আওয়ামী লীগ নেতাকে তারা ধরে নিয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীতে আলম নামের আওয়ামী লীগ নেতা পিস্তলের বৈধতা প্রমাণ দেয়ায় তাকে ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
এদিকে একাধিক সূত্রে জানাগেছে, আওয়ামী লীগ নেতা আলম এক সময় মোটর মেকানিক ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সে নেতা বনে যান। সেই সাথে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার সাথে সখ্যতা তৈরী করার পাশাপাশি লাইসেন্সধারী পিস্তল ক্রয় করেন।
সূত্রগুলো আরো জানায়, আলম তার লাইসেন্সধারী পিস্তল দিয়ে টেন্ডারবাজী করে। কোন কিছু হলেই পিস্তল প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ইতোমধ্যে এ ধরনের ঘটনা একাধিক বার ঘটিয়েছেন তিনি। এমনকি লাইসেন্সধারী পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়ায় বরিশাল নগরীর এক ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরীও করেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।