টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ছাত্রলীগের হামলা পাল্টা হামলার ঘটনায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ক্যাম্পাসে পাল্টা পাল্টি কর্মসূচি দিয়েছে উভয় পক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের একই স্থানে উভয় পক্ষ কর্মসূচি পালনে মুখোমুখি অবস্থানের ফলে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে সকালে মঈন তুষার গ্রুপের সমর্থকরা সফল ভাবে কর্মসূচি পালন করলেও অনিক সেরনিয়াবাত সমর্থকদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় নেতা-কর্মীদের উপর লাঠি চার্জ করে। তবে টেক্সটাইল কলেজে এখনো থম-থমে ভাব বিরাজ করছে। যেকোন সময় পূনরায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছে সাধারন শিক্ষার্থীরা। সে জন্য ক্যাম্পাসে মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জানায়, গত বুধবার রাতে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজের অবৈধ কর্ম পরিষদের কথিত ভিপি মঈন তুষার সমর্থক শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক স্বপন ও যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন তাদের বাহিনী নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক সেরনিয়াবাদ সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এসময় তারা টেক্সটাইল ছাত্রলীগ নেতা সৈকত রহমান ও তুষার আহত হয়। পরে তাদের মধ্যে সৈকতকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে সৈকতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে মঈন তুষার গ্রুপের সমর্থক টেক্সটাইল কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন সহ ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তারা পালিয়ে ক্যাম্পাসে চলে যায়।
অপরদিকে রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকালে মঈন তুষার সমর্থক স্বপন বাহিনী ক্যাম্পাসে গিয়ে তার সমর্থকদের দিয়ে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরবর্তীতে তারা ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহা সড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
একই স্থানে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসুচি পালন শুরু করে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক সেরনিয়াবাত সমর্থকরা। তারা সৈকত ও তুষারের উপর হামলার প্রতিবাদ এবং বহিরাগত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্লোগান শুরু করে। তখন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এক পর্যায় মডেল থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা অনিক বাহিনীর উপর মৃদু লাঠি চার্জ ও ধাওয়া করে ছাত্র ভঙ্গ করে দেয়। যে কারনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পন্ড হয়। তবে এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। কিন্তু পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৮ সদস্যদের কঠর নজরদারী এবং নিরাপত্তা বলয়ের কারনে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার পরেও গত বুধবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় আবারো ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছেন সাধারন শিক্ষার্থীরা।
যানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সকালে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মুখো-মুখি হয়। যে কারনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তখন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কোন পক্ষকেই কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। এমনকি ক্যাম্পাসে বহিরাগত কেউ প্রবেশ বা ছুটির পর কাউকে ক্যাম্পাসের আশে পাশে থাকতে দেয়া হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।