টি-টোয়েন্টিতে পাকদের অসহায় আত্মসমর্পন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিজেদের দিনে বাংলাদেশ যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা হারে হারে টের পেয়েছে পাকিস্থান। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্থানকে পাড়ার দলের কাতারে নিয়ে গেছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব ও সাব্বির। পাকিস্থানের দেয়া ১৪২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৬ দিয়ে শুরু করেন তামিম। আর ৪ দিয়ে শেষ করেছেন সাকিব। তাও ৩ ওভার ৪ বল অক্ষত ও হাতে ৭ উইকেট মজুদ রেখে। একদিনের তিন ম্যাচে বাংলাওয়াশ করার পর উড়তে থাকা টাইগারদের কাছে পাকদের অসহায় আতœসমর্পনে টি-টোয়েন্টির না হারানোর দুঃখ ঘুচেছে। এর আগে সাত ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। অষ্টম ম্যাচে এসে ধরা দিলো দাপুটে জয়। এক সময়ের দাপটশালী পাকিস্তানের লজ্জা থেকে নিজেদের আড়াল করতে একমাত্র টি টোয়েন্টিতে জয় পেতে দারুন মরিয়াও ছিলো। বুম বুম আফ্রিদির নেতৃত্বে উমর গুল, সোহেল তানভীর, সাইদ আজমল, মোহাম্মদ হাফিজের সমন্বয়ে গড়া পাকিস্তাানের সকল খেলোয়াড়রা তাদের সবটুকু উজার করে দিয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে সেরা সময়ে থাকা বাংলাদেশের কাছে পেরে উঠেনি।
গতকাল শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে পাকিস্তান। অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসানের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরুতে রানের জন্য লড়াই করতে হয় পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ ও মুক্তার আহমেদের। অতিথিদের উদ্বোধনী জুটি নবম ওভার পর্যন্ত স্থায়ী হলেও এই সময়ে তারা দ্রুত রান তুলতে পারেননি। তাসকিন আহমেদের করা অফস্টাম্পের একটু বাইরের বলে শেহজাদের তোলা ক্যাচ দারুণ দক্ষতায় লুফে নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শেহজাদের অবদান ১৭ রান। রানের গতি বাড়াতে তিন নম্বরে নামেন শহিদ আফ্রিদি। সফল হননি তিনি; তরুণ মুস্তাফিজের বলে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হয়ে ফিরে যান তিনি। পাকিস্তানের অধিনায়কের ব্যাটে বল লেগেছিল বলে টিভি রিপ্লেতে মনে হয়নি। অভিষিক্ত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মুক্তারকে ফিরিয়ে আরেকটি আঘাত হানেন আরাফাত সানি। তার বল ব্যাটসম্যানকে পুরোপুরি পরাস্ত করে মুশফিকের গ্লাভসে পৌঁছায়; একটু এগিয়ে এসে খেলতে যাওয়া মুক্তার ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই দারুণ ক্ষিপ্রতায় স্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশ উইকেটরক্ষক। ৭৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়া পাকিস্তানকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ হাফিজ ও হারিস সোহেল। ৫.৪ ওভারে ৪৯ রানের জুটি গড়েন এই দুই জনে। পরপর দুই বলে কোনো রান না দিয়ে হাফিজকে চাপে ফেলেন মুস্তাফিজ। পরের বলে হাফিজকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন এই তরুণ বাঁহাতি পেসার। হাফিজের বিদায়ের পর অতিথিদের রানের গতিতে ভাটা পড়ে। শেষ ১৩ বলে ১৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে না পারায় দেড়শ’ পর্যন্তও পৌঁছায়নি পাকিস্তানের সংগ্রহ। অভিষেক স্মরণীয় করে রাখলেন মুস্তাফিজ। ২০ রানে দুই উইকেট নেন তিনি। কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র ১৭ রান দেন সাকিব।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ হাফিজের প্রথম চার বলে ১৪ রান নিয়ে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তামিম ইকবাল। তবে সেই ওভারেই রান আউট হয়ে সৌম্য সরকারের বিদায়ে বড় একটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে কোনো বল খেলতে পারেননি তৃতীয় ওয়ানডে অপরাজিত শতক করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তৃতীয় ওভারে ফিরে যান তামিমও। উমর গুলের অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে হাফিজের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। এসেই দারুণ সব শট খেলে দ্রুত রান সংগ্রহ করতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। তবে ওয়াহাব রিয়াজের বলে ব্যাটের কানায় লেগে তিনি বোল্ড হয়ে গেলে অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যক্তি ১৯ রানে মুশফিকের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৩৮ রান। ওয়ানডে সিরিজে খুব একটা ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাননি সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমানরা। বিপদের সময় তারাই হলেন ত্রাতা। পাল্টা আক্রমণে দ্রুত রান তুলতে থাকেন সাকিব-সাব্বির। ১৬ ওভার ২ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৫১ রানের ধামাকা ইনিংসের জন্য ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছেন সাব্বির। আর বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব ছিলেন ৫৭ রানে অপরাজিত। পাকদের পক্ষে উমর গুল ২৩ রানে ও ওয়াহাব রিয়াজ ৩৯ রানে একটি করে উইকেট নেন।