টিসিবির ডিলারদের নিয়মে চলছে পন্য বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ’র (টিসিবি) ডিলাররা। মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের মনগড়া নিয়মে বিক্রি করছে পণ্য সামগ্রী। নগরীতে ভ্রাম্যমান ভাবে পৃথক স্থানে পণ্য বিক্রির নিয়ম থাকলেও তা করছে না তারা। যে কারনে এই রমজানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য ক্রয়ের সুবিদা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে ভোক্তারা।
সূত্র মতে, রোজা এলেই বাজার সিন্ডিকেটের তৎপরতা শুরু হয়। রমজান মাসকে পুজি করে কোন কারন ছাড়াই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারন মানুষকে।
এদিকে সিন্ডিকেট ঠেকাতে প্রতিবারের ন্যায় এবার রমজানেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য সামগ্রী বিক্রি শুরু করে টিসিবি। এর আওতায় বিক্রি করা হয় ভোজ্য তেল, ছোলা বুট, খেজুর, মশুর ডাল ও চিনি।
বিশেষ করে রমজান মাস উপলক্ষে নগরীতে ট্রাকে করে ভ্রাম্যামন ভাবে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির জন্য তিনজন ডিলারকে অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু এসব ডিলাররা সেই নিয়মের তোয়াক্কা করেই যে যার মত বিক্রি করছে টিসিবি’র পন্য।
টিসিবি বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, নগরীতে যে তিনজন ডিলারকে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে একটি বিসিসি’র নগর ভবনের সামনে, একটি কাশিপুর, নথুল্লাবাদ এলাকার আশে-পাশে এবং অপরটি রূপাতলী জোনে বিক্রি করবে।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে এর ভিন্নটা। কাগজ কলমে ডিলারদের নিয়ম বেধে দেয়া হলেও তারা ভোক্তাদের কথা না ভেবে তিনটি ট্রাকে একই স্থানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি করে। এর মধ্যে একটি নগর ভবনের সামনে, একটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মূল ফটকে এবং অপরটি থাকছে নগর ভবনের পেছন দিকে। এরা শুধু মাত্র ভিআইপি ক্রেতা, আইনজীবী, বিচার প্রার্থী এবং আশপাশের মানুষের কাছেই টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করে। এতে বঞ্ছিত হচ্ছে বর্ধিত এলাকার ভোক্তারা। তবে ডিলারদের মতে এখানে বেচা বিক্রি বেশি হয়। তাই তারা একই স্থানে একটু দূরত্ব বজায় রেখে বেচা বিক্রি করছে। এতে কোন প্রকার বাধা আসছে না বলেও জানিয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে টিসিবি আঞ্চলিক প্রধান আতিকুর রহমান বলেন, আমি নিজেই মাঝে মধ্যে মনিটরিং করছি। কিন্তু একার পক্ষে সব দিক সামাল দেয়া সম্ভব না। কেননা আঞ্চলিক কার্যালয়ে জনবল সংখ্যা একেবারে নেই বললেই চলে।
তবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি। তাদের বাজার মনিটরিং কমিটি এ বিষয়ে নজর রাখবে। তার পরেও বিষয়টি দেখবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।