টিএন্ডটি মসজিদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর টিএন্ডটি’র ক্যাবেল চোরদের হাত থেকে রক্ষা পেলোনা মসজিদের সম্পদও। এবার নামের সাথে তারা সেরনিয়াবাত যুক্ত করে মসজিদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতে মেতে উঠেছে। সেই সাথে টিএন্ডটি কলোনীর ডাব চুরির খাতায় নাম লিখেছেন ক্যাবেল চুরির এই হোতারা। এমনকি মসজিদের সম্পদ আত্মসাতকারী সেই চোর চক্রই মসজিদ কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে একের পর এক অপকর্ম করলেও টিএন্ডটি’র চিহ্নিত এসব চোর চক্রের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা। উল্টো কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোশকতায় চালিয়ে যাচ্ছে একের পর এক চুরি আর অর্থ আত্মসাতের ঘটনা। যে কারনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং টিএন্ডটি কলোনীর মুসল্লিরা।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সড়কের টিএন্ডটি কার্যালয়ের ক্যাবেল চোরদের দৌরাত্ম্য এখনো থামেনি। তারা একের পর এক অবৈধ এবং দুর্নীতিমুলক কর্মকান্ড করে আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তবে এবার মসজিদের নামে থাকা নারিকেল চুরি এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আত্মসাত করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন।
টিএন্ডটি কলোনীর একাধিক সূত্র জানায়, বিটিসিএল (টিএন্ডটি) বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত টিএন্ডটি শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেল ইউনিয়ন (সিবিএ)’র অবৈধ নেতা পরিচয়দানকারী ক্যাবেল চোরের হোতা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (অঃদঃ) গোলম মোস্তফা আজাদ, আ. রব সর্নামত, ওয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সর্নামত এবং ক্যাবেল জয়েন্টার সিদ্দিকুর রহমান নিজেদের আধিপত্ত জানান দিতে একের পর এক অপকর্ম করেও খ্যান্ত দেয়নি। বার বার অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়া চোর চক্রের এই হোতারা টিএন্ডটি কলোনীতে থাকা একশ নারীকেল গাছ থেকে প্রতিনিয়ত নারিকেল চুরি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা জানান, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকার ডাব এবং নারিকেল চোরাই ভাবে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছে।
তারা জানান, কলোনীর মধ্যে যে নারিকেল গাছ এবং ফলের গাছ রয়েছে তা সব টিএন্ডটি জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছে। প্রতি বছর মসজিদ কমিটির মাধ্যমে নারীকেল গাছগুলো লিজ দেয়া হয়। টিন্ডটি’র কর্মচারীরা এসব নারীকেল গাছ রশিদের মাধ্যমে নগদ অর্থে লিজ নিচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগদ টাকা দিয়ে লিজ নিলেও এ টাকা জমা হচ্ছে না মসজিদের ফান্ডে। বিশেষ করে নামের আগে সর্নামত কেটে সেরনিয়াবাত বনে যাওয়া দুর্নীতিবাজ এবং ক্যাবেল চুরির মূল হোতা দেলোয়ার হোসেন সর্নামত এবং তার সহোদর আব্দুর রব সর্নামত নিজেদের সিবিএ নেতা দাবী করে চুরির মহোৎসবে মেতেছেন। তারা ক্যাবেল জয়েন্দার মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে মসজিদের রিসিভ ব্যবহার করে নারিকেল গাছের ইজারা উত্তোলন করছে। অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলের প্রথম বর্ষ ২০১২ সনে সাধারন কর্মচারীদের কাছ থেকে ১টি রিসিভ দিয়ে ইজারার টাকা উত্তোলন করেন। একই ভাবে ২০১৩ এবং ২০১৪ সনে মসজিদ থেকে আনা রিসিভ ব্যবহার করে নারিকেল গাছ ইজারা টাকা উত্তোলন করলেও টাকাতো দূরের কথা রিসিভও জমা দেয়নি মসজিদ কমিটির কাছে। এমন সত্যতা স্বীকার করেছেন মসজিদের ইমাম এবং মুয়াজ্জিন।
শুধু নারিকেল চুরিই নয়, বিসিএ নেতা-পরিচয়ধারী এই চোর চক্রের বিরুদ্ধে রয়েছে আরো একাধিক অভিযোগ। যার মধ্যে মসজিদের সিঁড়ি নির্মানের কথা বলে কয়েক লাখ টাকার ব্যাকেট আত্মসাত করে এই চোর চক্র। এমনকি কলোনীর মধ্যে থাকা অন্যান্য গাছের ফল ফলাদি এবং গাছ কেটে চোরাই পথে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব করেও এখন তারা মসজিদ কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যে কারনে কলোনীর মুসল্লি সমাজের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিসিএ নেতার আড়ালে এই চোর চক্রের শাস্তিও দাবী করেন।