টিএন্ডটি’র ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল চুরির মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীতে চলছে টিএন্ডটির নিচের ক্যাবেল লূটপাটের মহোৎসব। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক লক্ষ টাকার সরকারি ক্যাবল চোরাই পথে বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিসিসির পানির পাইপ স্থাপনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টিএন্ডটি পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিসিসি পানির পাইপ লাইন স্থাপনকারী (রূপাতলী) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইড ম্যানেজার মোঃ নাইম অভিযোগটি করেন। এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষ নয় এ লুটপাটের সঙ্গে স্বয়ং বরিশাল টিএন্ডটি কার্যালয়ের লাইনম্যান এবং প্রকৌশলীরাই জড়িত রয়েছেন। আর লুটপাটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিএন্ডটির বহিঃ-৩ এর অতিরিক্ত দিয়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা আজাদ এবং সিদ্দিকুর রহমান। এমনই অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্রমতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিসিসির আওতায় পানির পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য রাস্তার পাশে মাটি কেটে গর্ত করা হচ্ছে। সেই সুযোগে লুটপাট করা হচ্ছে টিএন্ডটির অব্যবহৃত লাখ লাখ টাকার তামার ক্যাবল। ইতোমধ্যে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্যাবল চোরাইভাবে উত্তোলনের পর বিক্রি করে পকেট ভারি করেছে টিএন্ডটির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। সর্ব শেষ গত কয়েকদিন পূর্বে ক্যাবল চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে চোরাই চক্র। অভিযোগকারী বিসিসির একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাইড ম্যানেজার মোঃ নাইম জানান, তারা নগরীতে পানির পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ করছেন। এজন্য মাটি খনন করতে গিয়ে টিএন্ডটির টেলিযোগাযোগের ক্যাবল বেরিয়ে আসছে। তিনি আরো জানান, টিএন্ডটি লাইনম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন তাদের কর্মরত শ্রমিকদের মাটির নিচে পুরনো ক্যাবেল কেটে তাদের নিকট জমা দেয়ার জন্য বলেছে। এজন শ্রমিকরা ক্যাবলগুলো কেটে টিএন্ডটির লাইনম্যান জাহাঙ্গীরের নিকট জমা দিচ্ছেন। কিন্তু গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে টিএন্ডটির অপর উপসহকারী প্রকৌশলী ( অঃ দাঃ) বহি-৩ আশ্রাব আলী মৃধা ক্যাবেল কাটার কারণ জানতে চান শ্রমিকদের কাছে। এরপর বেরিয়ে আসতে থাকে সরকারি ক্যাবেল চোরাই সিন্ডিকেটের রহস্য। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাব আলী মৃধা জানান, তার কাটা বা বিক্রি করার কোন ক্ষমতা আমাদের নেই। তাছাড়া ঐ দিন ব্যক্তিগত কাজ শেষে শহরের দিকে ফিরছিলেন তিনি। পথিমধ্যে দপদপিয়ার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে পানির পাইপ লাইন স্থাপনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের টিএন্ডটির ক্যাবল কাটার দৃশ্য চোখে পড়ে। কিছুটা সামনে এগিয়ে কারণ কাজতে চাইলে শ্রমিক মোঃ তৌছির জানায়, টিএন্ডটির লাইনম্যান জাহাঙ্গীর ক্যাবল কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন সত্যতা জানতে লাইনম্যান জাহাঙ্গীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাতি-৩ এর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা আজাদ তাকে ক্যাবল কাটতে বলেছেন। তাই তিনি শ্রমিকদের দিয়ে ক্যাবল কাটাচ্ছেন। জানতে চাইলে উপ সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা আাজদ বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। তবে এক পর্যায় তিনি ক্যাবল কাটার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন ক্যাবলগুলো বিক্রি করা হচ্ছে না। ১৮ ফেব্রুয়ারি কাটা ক্যাবলগুলো র‌্যাব-৮ কার্যালয়ে রেখেছেন। অনুমতি ছাড়া বেআইনি ভাবে ক্যাবল কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গোলাম মোস্তফা আজাদ। তিনি বলেন আমি এখানে কাজ করি, তাই যা মনে হয় আমি তাই করব। এজন্য কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এদিকে ১৮ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব কার্যালয়ে চোরাই ক্যাবল রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব এর কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন আবুল বাশার বলেন, বাহিরের কিছু ক্যাম্পের মধ্যে রাখতে হলে কমান্ডিং অফিসারের অনুমতি লাগবে। তবে তার জানামতে ঐদিন কোন ক্যাবল রাখা হয়েছিল কিবা জানা নেই। টিএন্ডটি কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানগেছে, উপ সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা আজাদকে ওই ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পানির পাইপ স্থাপন কালে কোন ক্যাবল কেটে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করে দিনে তিনি। কিন্তু রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করেছেন। তার সহযোগি হিসেবে রয়েছেন অপর উপ সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান। সূত্রগুলো আরো জানায় ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাবল কাটার বিষয়টি টিএন্ডটিতে জানাজানি হলে সহকারি প্রকৌশলী খন্দকার জহিরুল আলম কাটা ক্যাবল স্টোরে জমা দিতে নির্দেশ করেন। কিন্তু গোলাম মোস্তফা আজাদ ও সিদ্দিকুর রহমান অদৃশ্য ক্ষমতা বলে চোরাই ক্যাবল স্টোরে জমা দেয়নি। শুধুমাত্র রূপাতলী এলাকাই নয় আরো বিভিন্ন স্থান থেকে টিএন্ডটির অব্যবহৃত মাটির নিচের ক্যাবল উত্তোলনের পর চোরাই পথে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে উপ সহকারি প্রকৌশলীদ্বয় এবং তাদের সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে।