টিএন্ডটির ভু-গর্ভস্ত ক্যাবেল চুরির হোতাদের সিবিএর পদ ডাকাতি !

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ভু-গর্ভস্ত ক্যাবেল চুরির পরে এবার নুতন করে আলোচনার সৃষ্টি করলেন বরিশাল টিএন্ডটি’র সেই বিতর্কিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম গোলাম মোস্তফা আজাদ ও তার সহকারী শেখ জাহিদ হোসেন। এবার তারা সিবিএ বিভাগীয় সভাপতি ও সম্পাদক দাবী করে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা ব্যানার টানিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে নিজেদের চুরির অপরাধ সহ নানা অপকর্ম ধামা-চাপা দিতে কথিত নেতা বনে গেছেন তারা।
তবে অভিযুক্তদের দাবী তারা কোন প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি ছাড়াই বৈধ ভাবে টিএন্ডটি শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেল ইউনিয়ন (সিবিএ) বরিশাল বিভাগীয় কমিটির পদ লাভ করেছেন।
সূত্রমতে, বরিশাল টিএন্ডটি বার বার বিতর্কীত কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম আজাদ ও তার সহযোগী তত্তাবধায়ক শেখ জাহিদ হোসেন। টিএন্ডটিতে কর্মরত অবস্থায় লাখ লাখ টাকার তার চুরি, কাছ চুরি করে লাকড়ি তৈরী এবং নারী কেলেংকারী সহ একাধিক ঘটনার অভিযুক্ত ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে মুর্তিমান আতংক এই দুই বিতর্কীত কর্মকর্তা। প্রতিনিয়ত তারা একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি করে ম্যানেজ প্রকিয়ায় পার পাওয়া এই দুই নেতা এখন নিজেদের অনেক বড় সিবিএ নেতা দাবী করছেন। কোন প্রকার কমিটি গঠন ছাড়াই তারা নিজেদের টিএন্ডটি শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেল ইউনিয়নের বিভাগীয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদক দাবী করছেন। টিএন্ডটি’র তত্ত্বাবধায়ক শেখ জাহিদ হোসেন নিজেকে সভাপতি এবং ক্যাবল চোর সিন্ডিকেটের মুল হোতা উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম আজাদ সাধারন সম্পাদক দাবী করে নিজেদের ছবি সহ টিএন্ডটি কার্যালয়ে টানিয়েছেন বিশাল আকাড়ের পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা ব্যানার। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তাদের নিয়ে ব্যাপক সমালচনার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে তথ্য খোঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আর এ তথ্য প্রমান করে শেখ জাহিদ হোসেন ও কেএম আজাদ নিজেদের দুর্নীতি এবং অনিয়ম ধামা চাপা দিতে নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ফেডারেল ইউনিয়নের বিভাগীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক দাবীদার কেএম আজাদ পরিবর্তনকে জানান, গত এক বছর পূর্বে ২০ সদস্য বিশিষ্ট বিভাগীয় কমিটির অনুমোদন দিয়েছে আঞ্চলিক কমিটি। আর এই কমিটির শুপারিশ করেছে জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। ঐ অনুমোদিত কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। আর সেই অনুযায়ী তারা সভাপতি-সম্পাদক লিখেছেন। কমিটি অনুমোদনের কপি তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিএন্ডটি শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেল ইউনিয়নের আঞ্চলিক যুগ্ম আহ্বায়ক তাছলিমা বেগম শিউলী পরিবর্তনকে জানান, বরিশাল বিভাগে তাদের কোন কমিটি নেই। যারা সভাপতি-সম্পাদক দাবী করে ব্যানার টানিয়েছেন তারা সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তিদ্বয় দাবী করছেন তাদের বিভাগীয় কমিটি অনুমোদন করেছে আঞ্চলিক কমিটি। কিন্তু বিভাগীয় কমিটি অনুমোদন দিতে পারে একমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটি।
শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেফ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ নেওয়াজ জানান, বরিশাল বিভাগে তাদের শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেল ইউনিয়নের কোন কমিটি নেই। কোন বিভাগীয় কমিটি হয়েছে বা ঐ কমিটির সভাপতি-সম্পাদক দাবী করে থাকলে তা অবৈধ। তাছাড়া বিভাগীয় কমিটি গঠনের কোন ক্ষমতাই আঞ্চলিক কমিটির নেই।
জানতে চাইলে আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি দাবীদার আব্দুর রব সেরনিয়াবাত পরিবর্তনকে জানান, শেখ জাহিদ হোসেনকে সভাপতি ও কেএম আজাদকে সাধারন সম্পাদক করে কমিটি গঠনের জন্য তারা কেন্দ্রে সুপারিশ করেছেন। কেন্দ্র থেকে তাদের জানিয়েছে সুপারিশ করা কমিটির অনুমোদন দেয়া হবে। তাই আপাতত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ করেছে। মৌখিক সেই নির্দেশের বলেই আঞ্চলিক কমিটি বিভাগীয় কমিটিতে জাহিদ ও আজাদকে সভাপতি-সম্পাদক পদ ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সিবিএ নেতা দাবীদার এই দুই নেতার বিরুদ্ধে চুরি ও নারী কেলেংকারী সহ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কিন্তু তারা কর্মকর্তা এবং তদন্ত কমিটিকে ম্যানেজ করে এখনো বহাল তবিয়তে থেকে অপকর্ম করে বেরাচ্ছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় পরিবর্তন সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম গোলাম মোস্তফা আজাদের বিরুদ্ধে তার বিগত দিনের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগীয় বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জালাল আহম্মেদ।