টার্মিনালের সরু পথ দুর্ভোগ বাড়ানোর শংকা

বিশেষ প্রতিবেদক॥ ঈদ উল ফিতরের আগে-পড়ে লক্ষ লক্ষ ঘরে ফেরা মানুষের ভীড় সামাল দেয়া সহ সব নৌযানসমূহের নির্বিঘœ নিরাপদ বার্দিং সুবিধা নিশ্চিত করতে পারছেনা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নৌ টার্মিনাল। অথচ মাত্র সাড়ে ৩ বছর আগে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ নৌ বন্দরের টার্মিনাল সুবিধাসমূহ সম্প্রসারন করা হলেও সে সময় ঈদ-কোরবানীর মত বড় পার্বনের ভীড় সামাল দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়নি। ফলে মাত্র ছয়টি ১২০ ফুট দৈর্ঘের পন্টুন এ নদী বন্দরের বাড়তি যাত্রী চাপ মোকাবেলা করতে পারছে না। আসন্ন ঈদ উল ফিতরের আগে পড়ে বরিশাল নদী বন্দর দিয়ে কমপক্ষে ৭লাখ যাত্রী চলাচল করবে।
এমনকি আগামী ১৫জুলাই থেকে বরিশাল বন্দরের মূল টার্মিনালে বিআইডব্লিউটিসি’র রকেট স্টিমার ও বিশেষ সার্ভিসের স্টিমারসমূহ ভেড়া ও ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা জারী হচ্ছে। ফলে সরকারী নৌযানে ভ্রমনকারী যাত্রীদের জন্য আসন্ন ঈদ উল ফিতরের আগে ও পরে চরম বিড়ম্বনা ও দূর্ভোগ অপেক্ষা করছে বরিশাল নদী বন্দরে।
২০১২সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১৭কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বরিশাল নদী বন্দরের আধুনিক টার্মিনাল ভবন সহ সংশ্লিষ্ট সুবিধা সমূহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ঐ প্রকল্পের আওতায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদী বন্দরের মূল টার্মিনালের সামনে ১২০ফুট দৈর্ঘের ৬টি পন্টুন স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৩টি পন্টুন স্থানীয় ও আঞ্চলিক রুটসমূহে চলাচলকারী একতলা ও দেড়তলা নৌযানের জন্য এবং অবশিষ্ট ৩টি বরিশালÑঢাকা রুটে চলাচলকারী দোতালা নৌযান সহ বিআইডব্লিউটিসি’র রকেট স্টিমারের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। সারা বছরের স্বাভাবিক সময়ে এসব পন্টুন বন্দর ব্যাবহারকারী নৌযানসমূহের চাহিদা মেটাতে পারলেও ঈদের ভীড়ের সময় তা যথেষ্ঠ অপ্রতুল।
শুরতেই সিদ্ধান্ত ছিল বর্তমানে সংযুক্ত পন্টুনসমূহের দক্ষিনপাশে আরেকটি লং পন্টুন সংযুক্ত করে সারা বছর ধরেই রকেট স্টিমার সহ টার্মিনালে বাড়তী যেকোন নৌযানের চাপ সমন্বয় করা হবে। কিন্তু একদিকে বিআইডব্লিউটিসি’র একটি কুচক্রী মহল শুরু থেকেই আধুনিক এ টার্মিনাল ব্যবহারে অনিহার পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ’র উদাসীনতায় পুরো কর্মসূচিই পিছিয়ে পড়তে থাকে। তবে গতবছর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নিরাপত্তাজনিত কারনে পুলিশÑপ্রশাসনের চাপে বিআইডব্লিউটিসি’র ঐ মহলটি নতি স্বীকার করে তাদের নৌযানসমূহ মূল টার্মিনাল থেকে পরিচালনা করতে সম্মত হয়। এতে করে সরকারী নৌযানে ভ্রমনকারী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ লাঘব হওয়ায় ছাড়াও এসব নৌযানের পরিচালনও যথেষ্ঠ নিরাপদ হয়।
কিন্তু আসন্ন ঈদের ভীড়ের শুরুতেই বরিশাল বন্দরে নৌ টার্মিনাল ব্যাবহার করতে পারছে না রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি’র নৌযানসমূহ। অথচ ২০১২-এর শেষভাগেই এ টার্মিনালের দক্ষিন প্রান্তে একটি অতিরিক্ত পন্টুন স্থাপনের সিদ্ধান্তটি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত হয়নি।
উপরন্তু এ নদী বন্দরের মূল টার্মিনাল ভবনের ভেতরের অংশে যাত্রীদের চলাচলের পথটিও যথেষ্ঠ অপ্রতুল। ঈদের ভীড়ের সময় এখান দিয়ে যাত্রীদের নির্বিঘœ চলাচল প্রায় অসম্ভব। ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ১২-১৪টি যাত্রীবাহী নৌযান এ টার্মিনাল থেকে পরিচালনা করতে চরম বিপত্তির সৃষ্টি হয়। পন্টুনে ভেড়া নৌযান থেকে মূল গেট পর্যন্ত যাত্রীতে ঠাসা এ টার্মিনালে তখন অনেকেরই দম বন্ধের যোগাড় হয়। দীর্ঘ সময় টার্মিনাল ভবনের এ সরু পথে হাজার-হাজার নারী ও শিশু যাত্রীদের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় অনেকেই অসুস্থও হয়ে পড়েন।
বরিশাল নদী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভুল সিদ্ধান্ত সহ বিঅইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশল বিভাগের উদাসীনতায়ই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে এ টার্মিনাল ভবনের ভেতরের চলাচলের পথটি আরো কম পক্ষে ১০ফুট প্রশস্থ করা উচিত ছিল। তবে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক সে সময় ভবনের ভেতরের অংশের ঐ যাত্রী চলাচলের পথটি পরবর্তিতে পূর্বদিক সম্প্রসারন করে দেয়ার কথা বললেও আজ পর্যন্ত তাও বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি পরবর্তিকালে এলক্ষ্যে ১৫লাখ টাকার একটি প্রাক্কালন বিআইডব্লিউটিএ’র সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হলেও তা অনুমোদন পায়নি।
এসব বিষয়ে গতকাল বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক-এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, বরিশাল, ঢাকা ও চাঁদপুর টার্মিনালের জন্য বেশ কিছু নতুন পন্টুন তৈরীর উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। সেখান থেকে বরিশালে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পন্টুন দেয়া হবে। উপরন্তু বরিশাল টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারনের লক্ষ্যে একটি কর্মসূচী কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেছে বলে জানিয়ে তিনি জানান, মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন লাভ করলে চলতি অর্থ বছর থেকেই ঐ উন্নয়ন কর্মসূচীর কাজ শুরু করারও চেষ্টা চলছে। কর্মসূচীটির আওতায় বর্তমান টার্মিনাল ভবনটি দক্ষিন প্রান্তে আরো সম্প্রসারন সহ যাত্রী সুবিধা সম্প্রসারনে আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহনের কথা জানান তিনি। তবে বর্তমান ভবনের ভেতরের চলাচলের পথটি সম্প্রসারনের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে কিছু বলতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করে যাত্রী বান্ধব সবকিছু করা হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান।