টানা ৭ দিন ধরে রুপাতলী থেকে ১০ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আট কিলোমিটার সড়কের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে দ্বন্দ্বে নগরীর রুপাতলী থেকে গত সাত দিন ধরে ঝালকাঠী, পিরোজপুর ও খুলনা সহ অভ্যন্তরীন ১০টি রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বরিশাল-পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি মিনিবাস মালিক সমিতির সঙ্গে দ্বন্ধে গত ৮ জানুয়ারী থেকে এমন পরিস্থিতি সমাধানে এগিয়ে আসছে না প্রশাসন। এর ফলে সীমাহিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ওইসব রুটের বাস যাত্রীদের। এজন্য অবশ্য বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির খামখেয়ালী আচরনকেই দায়ী করছে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও সাধারণ যাত্রীরা। তবে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি বলছে এটি ঝালকাঠি সমিতির স্বেচ্ছাচারিতা। আর এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
সূত্র মতে, বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি ও ঝালকাঠি জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির মধ্যকার দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব সমাধানে বৈঠকের আহ্বান জানায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার। গত ২ জুনায়রী বৈঠকের সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হলেও সেখানে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ আসেনি। এজন্য কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই চলে যেতে হয় ঝালকাঠি সমিতির নেতৃবৃন্দকে। এর প্রতিবাদ এবং আট কিলোমিটার সড়কের ন্যায্য হিস্যার দাবীতে গত ৩ জানুয়ারী বুধবার সকাল থেকে বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনার, পাথরঘাটা, মঠবাড়ীয়া, ভান্ডারিয়া, রাজাপুর, নলছিটি, মোল¬ারহাট ও খুলনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় ঝালকাঠি জেলা বাস মালিক সমিতি। এমনকি ওইসব রুটের বাসও বরিশাল জেলার সীমানা অতিক্রম করছে না। তবে ঝালকাঠি সহ পঞ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য সমিতির বাস এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য ঝালকাঠি জেলার আওতাধীন বরিশাল রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুরে রায়াপুর এলাকায় অস্থায়ী বাস টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকেই ঝালকাঠি সহ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য রুটের বাস ছেড়ে যাচ্ছে। বরিশালের যাত্রীদের মাহেন্দ্রা, অটোরিক্সা সহ অন্যান্য গনপরিবহনের মাধ্যমে বাড়তি ভাড়া দিয়ে রায়াপুর পৌছতে হচ্ছে।
ঝালকাঠী জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার শাহ আলম বলেন, বরিশালের সাথে আমরা সমন্বয় করে ব্যবসা করছি। কিন্তু তারা আমাদের ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না। বরং শুরু থেকেই ঠকিয়ে আসছে। রূপাতলী সমিতির নেতৃবৃন্দ আমাদের কোন ভাবেই মূল্যায়ন করছে না। এমনকি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকেও তারা তোয়াক্কা করছে না।
তিনি বলেন, আমরা বরিশাল সমিতির মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহার করছি। এজন্য তারা আমাদের গোটা ঝালকাঠি জেলা সড়ক ব্যবহার করছে। প্রতিদিন তাদেরকে ঝালকাঠি সমিতি থেকে ৪৫টির মত প্লাই দিয়ে হচ্ছে। তাছাড়া বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কেও আমাদের আট কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। যা ব্যবহার করছে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলা বাস মালিক সমিতি। আমরা ঝালকাঠি থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে আমাদের বাস চলাচলের জন্য প্রস্তাব দেই। কিন্তু তা মানতে নারাজ বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি। এ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই রূপাতলী সমিতি আমাদের ঘোরাঘুরি করে আসছে। প্রশাসনিক এবং নিজস্ব ভাবে বেশ কয়েকবার সবার সিদ্ধান্তও হয়েছে। কিন্তু বৈঠকের সময় নির্ধারন করে সমিতির নেতৃবৃন্দ সেই বৈঠকে উপস্থিত হচ্ছে না। এজন্য বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কে ঝলকাঠি সড়ক বিভাগের অধিন্যস্ত ৮ কিলোমিটার সড়কের ন্যায্য হিস্যার দাবীতে গত ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেই।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ২০ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ জানুয়ারী বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ সমাধানে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের কথা ছিলো। আমরা তাতে সম্মতি জানিয়ে বরিশাল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের সকল রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক করে দেই। কিন্তু বিভাগীয় প্রশাসেরন সেই সিদ্ধান্তকেও উপেক্ষা করেছে বরিশাল-পটুয়াখালী সমিতি। ২ জানুয়ারী আমরা নগরীর সার্কিট হাউসে গেলেও সেই বৈঠকে তারা কেউ আসেনি। এজন্য অনির্দিষ্ট কালের জন্য বরিশাল থেকে ঝালকাঠি সহ পশ্চিমাঞ্চলের ১০ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আট কিলোমিটার সড়কের ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া এভাবেই পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটে বাস চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি সমিতির সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম।
এ প্রসঙ্গে নগরীর রূপাতলিস্থ বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, ঝালকাঠি সমিতি যে করছে তার পুরোটাই অযৌক্তিক। কেননা আমরা তাদের যে পরিমান ছাড় দিচ্ছি তা আমরা পাই না। তার পরেও যাত্রীদের জিম্মি করে তারা বরিশাল-ঝালকাঠি সড়কের ৬ কিলোমিটার সড়কে বাস চলাচল করতে দিচ্ছে না। বরিশালের বাস ঝালকাঠি এবং ঝালকাঠির বাস বরিশালে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন, বরিশালের স্থানীয় সাংসদ সদস্য এবং জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। অবশ্য বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির একটি দায়িত্বশিল সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন বিষয়টি সমাধান করলে ভালো। নয়তো ঝালকাঠি সমিতির বাড়াবাড়ি বন্ধের দাবীতে বরিশাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সকল রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার মত কর্মসূচি দেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সূত্রটি।