টানা বর্ষন ও জলাবদ্ধতায় নগরীর সৌন্দর্যহানি

জুবায়ের হোসেন॥ ভারি বর্ষনে তৈরি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেলেও পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে নগরী। গতকাল সোমবার দিনভর স্বাভাবিক আবহাওয়া থাকলেও নগরীর রাস্তাঘাট, ফুটপাত, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রোপনকৃত বিভিন্ন এলাকার গাছের ডাল-পাতা পড়ে গেছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত, ফুটপাতের ওপরে ময়লা আবর্জনা এবং গাছের গোড়ায় পানি জমে তা পচতে শুরু করেছে। এসবের প্রধান কারন হিসেবে জলাবদ্ধতা থাকলেও দীর্ঘদিন অপরিচর্যা এবং এই পরিস্থিতি তৈরির একটি অন্যতম কারন বলে মনে করেন নগরবাসী। ইতিমধ্যেই পরিপাটি নগরী তার সৌন্দর্য হারিয়েছে বলে তারা আরও জানান, প্রশস্ত সড়ক, ফুটপাত, সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নগরের বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপনকৃত গাছপালা এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য বরিশাল নগরীর দেশের মধ্যে একটি অন্যতম স্থানে চলে গিয়েছিল। কিন্তু নগরীর উন্নয়ন কর্মকান্ডের পর ঠিকাদাররা রাস্তার উপর মাটি ফেলে রাখার কারনে চলাচলে বিঘœ ঘটছে, বাড়ছে যানজট। যানজট বৃদ্ধির সাথে বেড়েছে পায়ে হেটে চলাচলের বিড়ম্বনা। নগরের প্রধান সড়ক গুলোর এই অবস্থা। এছাড়াও বিভিন্ন প্রধান এলাকা যেমন, ঈশ্বর বসু রোড, জর্ডন রোড, গোড়াচাঁদ দাস রোড এর মত গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোর সড়ক দখল করে আছে ওই সকল এলাকার প্রভাবশালীরা। তারা তাদের বহুতল ভবনগুলো নির্মানের সামগ্রী ইট, বালু, খোয়া ইত্যাদি স্তুপ করে রাখছে সড়কের একটি বড় অংশ আটকে। যা তৈরি করছে যানজট সহ ছোট বড় দুর্ঘটনা। এই হল সড়কের অবস্থা। ফুটপাতগুলোর অধিকাংশই পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রোপনকৃত বেশিরভাগ এলাকার গাছগুলোর কোন পরিচর্যা হচ্ছে না। তাই ওই সকল গাছের শুকনো পাতা, ডাল ঝড়ে পরে তৈরি হয় আবর্জনা যা নোংরা করছে ফুটপাত। একই সাথে তা পচে ক্ষতি করছে গাছগুলোর। তাই এখন তা সৌন্দর্য বর্ধনের স্থলে সৌন্দর্য হানির কারণ হযে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ের উদাহরণ দিতে বলা হয়েছে জিলা স্কুলের মোড়ের স্কুলের দেয়াল সংলগ্ন গাছগুলোর কথা। সেখানে পরিচর্যার অভাবে গাছগুলোর পাতা ঝড়ে ফুটপাতে শেওলা পড়ে গেছে। এতে করে চলাচলে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ওপরে মরার উপর খারার ঘাঁ হয়ে যোগ হয়েছে তিন দিনের জলাবদ্ধতা। গত বৃহস্পতিবার থেকে হওয়া টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় খোড়া সড়কগুলোর পিচ ধুয়ে উঠে এসেছে পাথর। একই সাথে হয়েছে বড় বড় গর্ত। এছাড়া পানি নেমে গেলেও ভেসে আসা আবর্জনা এখনও যায়নি। পানিতে ভেসে আসা আবর্জনাগুলো গাছের গোড়ায় জমে তা পতে এখন দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে পুরোই এলোমেলো অবস্থা নগরের। তবে শীঘ্রই এ সকল অবস্থা স্বাভাবিক করে পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে বিসিসি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা পরিবর্তনকে জানান, বিষয়গুলো তাদের নখদর্পনে রয়েছে। গতকালও কিছুটা বৃষ্টি হয়েছে তাই আজ থেকে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা দল নগরের পূর্ব চেহারা ফিরিয়ে দিতে মাঠে নামবে। জলাবদ্ধতায় তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। তবে ৩ দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সব কিছু সাবেক অবস্থায় আনতে পুরোদমে কাজ করা হবে। এই কাজ বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মী সহ ২০ জন কাজ করবে বলেও জানান তিনি।