টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে কিছুই করা যাচ্ছে না

রুবেল খান॥ প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে বরিশাল নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৩ সাল থেকে দফায় দফায় প্রকল্প গ্রহন করে মন্ত্রনালয়ে পাঠালেও তার সুফল পাওয়া যায়নি। ফলে প্রায় দুই বছর যাবত ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে কয়েক কোটি টাকার ৬টি প্রকল্প। আদৌ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়েও উদ্বিগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মন্ত্রানালয়ের সিদ্ধান্তের অভাবে ছোট হয়ে যেতে শুরু করেছে বরিশালের আয়তন। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে একরের পর একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, নদীতে পানির চাপ এবং ¯্রােতের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই এমনটি হয়ে থাকে। এ কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় পাড় এবং পাড়ের বাসিন্দাদের। প্রতি বছর অব্যাহতভাবে নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সাধারন মানুষের শেষ সম্বল জমি এবং বাড়ি-ঘর। কিন্তু আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এসব অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পাচ্ছিনা। এর প্রধান কারন অর্থ বরাদ্দের অভাব।
তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বরিশালের কীর্তনখোলা, সন্ধ্যা এবং আড়িয়াল খা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙ্গন শুরু হয়। এই ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে অনেক আগে থেকে। এসব জায়গায় নদী রক্ষা বাধ নির্মান খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রকল্প গ্রহন করা সত্ত্বেও অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দের অভাবে কোন নদীতেই বাধ নির্মান বা নদী ভাঙ্গন রোধে আমরা ভূমিকা রাখতে পারছি না।
নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহম্মেদ উল্লেখ্য করে বলেন, ২০১৩ সাল থেকে কীর্তনখোলা নদীর চরকাউয়া অংশে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়। কিন্তু গত প্রায় ২ বছরে আমরা সেখানে ১০ টাকার কাজও করতে পারি নি। এর কারন জানিয়ে তিনি বলেন, ঐ সময় থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চরকাউয়া নদীর ভাঙ্গন রোধে ৬টি প্রকল্প গ্রহন করে অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটিরও অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রনালয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে সর্ব প্রথম চরকাউয়ার ভাঙ্গন রোধে ৩০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়।
এরপর ২০১৪ সালের জুনে ৩৫০ মিটার প্রতিরক্ষা বাধের জন্য ১০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করে তা মন্ত্রনালয়ে অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রেরণ করা হয়। একই বছরের জুলাইতে পূনরায় তাৎক্ষনিক ভাঙ্গন রক্ষায় আরো ৩০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প ঢাকায় অনুমোদনের জন্য প্রেরন করে পানি উন্নয়ন র্বোড। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের শেষের দিকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। চলতি ২০১৫ সালের মার্চে ১০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ নদীর পারে বাধ নির্মানের জন্য ৪০ লক্ষ এবং সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চরকাউয়ায় আকস্মিক ভাবে শুরু হওয়া ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রথমিক পর্যায়ে জিও ব্যাগ (বালুর ব্যাগ) ফেলতে ৩০ লক্ষ টাকার অর্থ বরাদ্দ চেয়ে একটি প্রকল্প লিখিত আকারে মন্ত্রনালয় সহ প্রতিটি দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে একটি প্রকল্পেরও অনুমোদন বা অর্থ বরাদ্দ দেয়নি মন্ত্রনালয়। যে কারনে নদী ভাঙ্গনে বিলীনের চিত্র আর সাধারন মানুষের কান্না’র শব্দ শোনা ছাড়া আর কিছুই করার থাকছে না। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চর কাউয়া সহ আশ-পাশের সকল নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে বলেও দাবী করেন এই কর্মকর্তা।