ঝুঁকির মধ্যে পিএস অস্ট্রিচ’র ঢাকা যাত্রা

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের ¯্রােত অব্যাহত থাকার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি’র নিয়মিত রকেট স্টিমার ধারনক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গতকাল বরিশাল বন্দরে ভেড়ার পরে বিকল হয়ে পড়ে। ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় প্যাডেল মেরামত করে নৌযানটি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ঢাকায় গেছে। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘পিএস অস্ট্রিচ’ পিরোজপুর ও ঝালকাঠীর বিভিন্ন স্টেশন থেকেই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে সরাসরি ঢাকায় যাবার কথা। কিন্তু বরিশাল বন্দরের অদুরে নৌযানটির প্যডেলে গোলযোগ দেখা দেয়ায় তার মেরামত জরুরী হয়ে পড়ে। ফলে বরিশাল বন্দরে জরুরীভাবে নোঙর করার পরে মেরামত কাজ শুরুর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইতোমধ্যে নৌযানটির ছাদও বোঝাই হয়ে গেলে কাপ্তেন মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঘাট ত্যাগে অনিহা প্রকাশ করে। পরে পুলিশের সহায়তায় কিছু যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে যায় পিএস অস্ট্রিচ।
ফলে বরিশাল ও সন্নিহিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ গতকাল চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মস্থলে ফিরতে পারেনি। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘পিএস অষ্ট্রিচ’ জাহাজটি পিরোজপুর ও ঝালকাঠীর বিভিন্ন স্টেশন থেকেই ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় বরিশাল বন্দরে ভেড়ার কথা ছিলনা। এমনকি নৌযানটিতে গতকাল বরিশাল থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কোন টিকেটও বিক্রী করা হয়নি। গতকালও বরিশাল নদী বন্দর থেকে প্রায় ১৪টি বেসরকারী নৌযান ধারন ক্ষমতার প্রায় তিনগুন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। বিআইডব্লিউটিএ সহ পুলিশÑপ্রশাসনের সামনে থেকে গত কয়েকদিন ধরেই সরকারী-বেসরকারী নৌযানগুলো মাত্রাতিরিক্ত ঝুকি নিয়ে ধারন ক্ষমতার আড়াই থেকে তিনগুন যাত্রী বহন করলেও আইন অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়ে যাত্রী ভীড়ের কাছে।
তবে গতকাল দুপুরে বরিশালÑঢাকা রুটের বেসরকারী ক্যাটামেরন সার্ভিসের একটি নৌযানকে ভ্রাম্যমান আদালত ১৫হাজার টাকা জরিমানা করে। নৌযান কর্তৃপক্ষের দাবী অতিরিক্ত যাত্রী না নেয়ার পরেও প্রশাসনের কতিপয় লোক ব্যক্তিগত আক্রোশে এ জরিমানা করেছে। তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহল এ অভিযোগ দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেছে। গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য খুব শিঘ্রই বরিশাল রুটে তাদের ক্যাটামেরন সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি চিন্তা করছেন বলেও জানিয়েছে।
ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখি জন¯্রােতে গতকালও বরিশাল নদী বন্দর সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো লঞ্চ স্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলো ঠাসা থাকলেও অনেক যাত্রীই যানবাহনের অভাবে আটকা পড়েন। এবারের ঈদের আগে পড়ে রাজধানী ঢাকা সহ চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত দশ লাখ যাত্রী যাতায়াত করার কথা। গত তিন দিন ধরে বরিশাল বন্দর থেকে গড়ে অর্ধ লক্ষাধীক মানুষ শুধু সরকারীÑবেসরকারী নৌযানে ঢাকায় এবং চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারী নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি তার বিশেষ স্টিমার সার্ভিসসমুহ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টিকে ‘অমানবিক ও বিবেকহীন উদাসীনতা’ বলে মনে করছেন যাত্রী সাধারন । অথচ নিয়মিত রকেট সার্ভিসের জন্য ‘এমভি বাঙালী, এমভি মধুমতি ও পিএস অস্ট্রিচ’কে রেখে ‘পিএস লেপচা’ জাহাজটিকে শুধুমাত্র বরিশালÑচাঁদপুর রুটে পরিচালন সম্ভব বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
এব্যপারে গতকাল বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক-বানিজ্য’র সাথে আলাপ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন। তবে সংস্থার জিএম-বানিজ্য জানান, তারা চেষ্টা করছেন আগামী যে কয়টি দিন বেশী ভীড় থাকবে, ততদিন রকেট সার্ভিসে বড় মাপের এমভি মধুমতি ও বাঙালীকে পরিচালনার। এতেকরে নৌযানগুলো বরিশাল বন্দর থেকে যাত্রী তুলতে পারবে। তবে এত সমস্যার কোন সুরাহা হবে কিনা তা তিনি বলতে পারেন নি। এদিকে সদ্য ভারী মেরামত থেকে ফেরা ‘পিএস টার্ণ’ জাহাজটি কবে পুনরায় সচল হয়ে যাত্রী পরিবহনে ফিরবে তা বলতে পারেননি বিআইডব্লিউটিসি’র কারগরি পরিদপ্তর।
অপরদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাথে সংক্ষিপ্ত যোগাযোগের বরিশালÑলক্ষ্মীপুর রুটেও বিআইডব্লিউটিসি’র ‘এসটি খিজির-৮’ নৌযানটির মওশুমী ইজারাদার ধারন ক্ষমতার দ্বিগুনেরও বেশী যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। তবে ঈদের আগে একই রুটের বেসরকারী নৌযান ‘এমভি পারিজাত’কে ২৫হাজার টাকা জরিমানা করেছে লক্ষ্মীপুরের ভ্রাম্যমান আদালত। নৌযানটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সরকারী সীÑট্রাকে যেখানে প্রতিদিন ধারন ক্ষমতার দ্বিগুনেরও বেশী যাত্রী নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে, সেখানে তাদের বৈধভাবে যাত্রী পরিবহনে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটে চলাচলকবারী সংস্থাটির ‘এসটি খিজির-৭’ নামের সীÑট্রাকটির সার্ভে সনদ পর্যন্ত নেই। একই রুটের বেসরকারী নৌযান ‘এলসিটি কুতুবদিয়া’রও সার্ভে সনদ না থাকার পরেও প্রতিদিন ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সাগর মোহনার মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব নৌযানের ব্যাপারে প্রশাসনের নিরব থাকার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।