ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চে চলছে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি

বাংলা ট্রিবিউন ॥ দেশের সাম্প্রতিক সময়ের বড় ধরনের দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটেছে নৌপথে। এছাড়া প্রতিবছরই ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও অতিরিক্ত যাত্রীবহনসহ নানা কারণে ঝূঁকিপূর্ণভাবে নদী পাড়ি দিতে হয় দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নৌপথের যাত্রীদের। এবারের ঈদেও এ থেকে রেহাই মিলছে না তাদের। এরইমধ্যে ঈদে ঘরমুখো মানুষের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সদরঘাটের বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী কেরাণীগঞ্জ এলাকায় মেরামত করা হচ্ছে পুরনো ফিটনেসবিহীন লঞ্চ।
তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি, অনুমোদন সাপেক্ষেই পুরনো লঞ্চ মেরামতের কাজ চলছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কেরাণীগঞ্জের কালীগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে ঈদকে সামনে রেখে শতাধিক পুরনো লঞ্চ মেরামতের কাজ চলছে। চলাচল অনুপযোগী এসব জীর্ণশীর্ণ, ভাঙাচোরা লঞ্চ নতুন করে তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ডক শ্রমিকরা।
একদিকে যেমন পুরাতন জং ধরা লঞ্চ পালিশ করে রং-চং করা হচ্ছে আবার অন্যদিকে ভাঙাচোরা লঞ্চের বিভিন্ন অংশে লোহা দিয়ে জোড়াতালির কাজ চলছে । রমজানের শুরু থেকেই পুরনো লঞ্চকে নতুন চেহারায় ফিরিয়ে আনার এ প্রক্রিয়া চলছে।
আনোয়ার মিয়া নামের একজন ডক শ্রমিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রমজানের শুরু থেকেই আমাদের কাজের চাপ বেড়েছে। ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী চলাচল করবে নৌপথে। লঞ্চ মালিকদের জন্য এটি গরম মৌসুম, তাই তারা দ্রুত লঞ্চ মেরামত করতে চায়। আমরা অন্তত ঈদের ১০ দিন আগেই মালিককে লঞ্চ বুঝিয়ে দিব।
এ বিষয়ে বেবি ডকইয়ার্ডের মালিক মোহাম্মদ হোসেন বেবি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মালিকরা আমাদের লঞ্চ মেরামত করে দিতে বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব উৎকৃষ্টভাবে কাজটি করে দেই। এখন এর অনুমোদন কিংবা চলাচলের বিষয়টিতো কর্তৃপক্ষ দেখবে। আমাদের কাজ তো শুধু মেরামত করা।
তড়িঘড়ি করে মেরামত করা এসব ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চেই ঈদের আগে ও পরে যাতায়াত করবে লাখ লাখ যাত্রী। তাই পুরনো লঞ্চ নতুন করার প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত তারাও।
দেশের অন্যতম প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। বরিশাল থেকে লঞ্চে ঢাকায় আসা শিক্ষার্থী ফরিদ হোসেন বলেন, এখান থেকে একটু ভাল করে তাকালেই দেখা যায় যে, পুরনো লঞ্চ নতুন করা হচ্ছে, এসব লঞ্চের কারণেই কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিবছর। কিন্তু কবে কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হবে?
নামপ্রকাশ না করার শর্তে একজন লঞ্চ মালিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঈদে যাত্রী চলাচল করে কয়েকগুণ বেশি, এদের জন্য তো অতিরিক্ত লঞ্চ প্রয়োজন। আর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনও লঞ্চ নামানো হয় না, চলাচল করা সব লঞ্চই ফিটনেস সম্পন্ন।
তবে বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, এসব লঞ্চ মেরামত করার পরেও ফিটনেসহীন থাকে। তা সত্ত্বেও চলার অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) লঞ্চ সার্ভেয়ার কর্মকর্তা মির্জা সাইফুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুরাতন লঞ্চের মধ্যে যেগুলো মেরামত করলে ফিটনেস ফিরে পাবে সেগুলোই শুধু মেরামতের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। আবার মেরামতের পরেও সেগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়। পরে ফিটনেস ঠিক থাকলেই তা চলাচলের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়, অন্যথায় তা বাতিল করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, লঞ্চ মেরামতের কাজ সারাবছরই চলে। ঈদের আগে একটু বেশি হয়। তবে পুরাতন লঞ্চ মেরামত করার পাশাপাশি এবছর বেশ কয়েকটি নতুন লঞ্চ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক যুগ্ম পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ঈদের সময় বাড়তি নজরদারি করি যাতে কোনও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল না করতে পারে। এ বছরও সিসি টিভির মাধ্যমে তা তদারকি করা হবে।