ঝিমিয়ে পড়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সক্রিয়

জুবায়ের হোসেন ॥ ঝিমিয়ে পড়া ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়েছে। প্রায় ৯ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারান্তরীন কিংবা পালিয়ে থাকতে থাকতে নেতাকর্মীরা অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। দুর্দিনে পড়া ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের পাশে কেউ ছায়া হয়ে না আসায় সিংহভাগ নিস্ক্রিয় হয়। সংগঠনের জন্য তাদের ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে কাঙ্খিত কমিটি হওয়ার কোন সম্ভাবনাও না থাকায় ছাত্রদলের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায় নি।
তিন মাস মেয়াদের আহবায়ক কমিটি ৪ বছর পার করলেও জেলা ও মহানগরে কোন কমিটি করতে পারেনি। তবুও ব্যর্থ নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিতেও স্থান পাওয়ায় নেতাকর্মীরা একেবারে প্রানহীন হয়ে পড়ে। দুই শাখার নেতাকর্মীদের মাঝে দীর্ঘ ১৩ বছর পর কমিটি গঠনের প্রায় চুড়ান্ত হওয়ার আভাসে প্রান ফিরে এসেছে। তাই মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে গা ঢাকা দেয়া ও কোনভাবে টিকে থাকা ছাত্রদল নেতারা সাধ্য অনুযায়ী নিজেদের লোকবল নিয়ে নেমেছে রাজপথে। শীঘ্রই জেলা ও মহানগরসহ বিভিন্ন কলেজ শাখার কমিটি চুড়ান্ত করার খবরেই পাল্টে গেছে প্রেক্ষাপট দাবি তৃনমূলের।
দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত এই কমিটি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনাও। প্রকাশ্যে আসা ছাত্রদল নেতারা পদ পেতে যথাসাধ্য চেষ্ঠা করছেন। একই সাথে নেতাকর্মীদের মাঝে শংকাও রয়েছে। কারন বিগত দিনে কমিটি নিয়ে নাটকীয়তা দেখতে হয়েছে তাদের একাধিকবার।
ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করেছে, এখনকার ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে প্রতিবন্ধকতা চলছে অনেক আগ থেকেই। একাধিকবার কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা বর্তমান মেয়াদউত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের রেশারেশির কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই ২০১১ সালের করা জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিই নামমাত্র টিকে আছে বরিশাল ছাত্রদল। জেলার আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুন ও মহানগর এর আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন তাদের নিজ স্বার্থে ব্যস্ত থাকায় নিজ সংগঠন সাজাতে দিলেন পুরোপুরিই ব্যার্থ। তবে বর্তমানে ছাত্রদলকে টিকিয়ে রাখার তাগিদে কমিটির বিকল্প নেই এই ভেবে সক্রিয় হয়েছেন নেতারা। এছাড়া প্রায় বার্ধক্য ছুই ছুই ছাত্রদল নেতারা নিজেরাই চাচ্ছেন মুক্তি। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গের পর তাই এবার বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কেন্দ্র দিয়েছে একটি খসড়া তালিকাও। বরিশাল জেলা ছাত্রদলের চূড়ান্ত কোন পদবি না পেলেও মহানগরের সভাপতি পদের জন্য আরিফুর রহমান মুন্নার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদেই বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান মঞ্জুর নাম প্রস্তাবিত হলেও বিবাহিত হওয়ায় বিতর্কিত হয়ে ছাত্রদল থেকে ছিটকে যেতে পারেন তিনি বলে জানায় সূত্রটি। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলে বিভিন্ন পদবীর দাবিদার হিসেবে প্রস্তাবিত অন্যান্য ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আশরাফুজ্জামান রাকিব, রনি, সুজন, ইয়াসির আরাফাত সিন্টু, তরিকুল ইসলাম তারেক, সোহেল রাড়ী, তারেক, আল-ইমরান, জাবেদ আব্দুল্লাহ সাদি প্রমুখ। জেলা ও মহানগর এর সাথে সাথেই কলেজ শাখা কমিটি গুলো গঠনের প্রস্তাবও চলছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পদে ত্যাগের ও সাংগঠনিকতার বিচারে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল থেকে উঠে আসা মোঃ হুমায়ুন কবির। সাধারণ সম্পাদক পদে নাইমুল ইসলাম সোহেল, রেজা প্রমুখ। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদল কমিটিতে সভাপতি পদে এগিয়ে সুজন হাওলাদার বাবু। হাতেম আলী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন মুশফিকুর রহমান অভি। প্রত্যেকটি কমিটির জন্য প্রস্তাবিত এই সকল নামের ছাত্রনেতারা সকলেই আন্দোলন সংগ্রামে তাদের দৃষ্টান্ত দিয়ে আলোচনায় এসেছে বলে জানায় সূত্রটি। আর তাদের নিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠনের আলোচনাই ফের চাঙ্গা করে তুলেছে বরিশালের ছাত্রদলকে যা অতি শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান মামুন ও খন্দকার আবুল হোসেন লিমনের সাথে আলাপ কালে তানা জানান, কমিটির মেয়াদ শেষ তাই যে কোন মূহুর্তে নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তাদের নিজেদেরও ছাত্রদলে থাকার ইচ্ছা নেই জানিয়ে তারা আরও বলেন, শীঘ্রই কমিটি হবে তবে তা বিবাহিত নয়। ত্যাগী ও তৃণমূল থেকে উঠে আসা তরুণ ছাত্রদল নেতাদের সমন্বয়ে।