ঝাল বেড়েছে কাঁচা মরিচের ॥ সবজির মূল্য আকাশ ছোয়া

জুবায়ের হোসেন ঈদ-উল-আজহার আগ থেকে বেড়ে চলা নগরীর কাঁচা বাজারগুলোর বিভিন্ন ধরনের তরকারীর মূল্য এখন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। ঈদের ব্যস্ততায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যানবাহনের অভাবে সবজির আমদানি কম হওয়ায় তৈরি হওয়া এই সমস্যাকে পুজি করে ভ্রাম্যমান ও খুচরা বিক্রেতারা অধিক মূল্যে

কাঁচা তরকারী বিক্রি করছে। তবে সবচেয়ে ঝাঁঝ বেড়েছে কাঁচা মরিচের। বর্তমানে খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা দড়ে আবার কোথাও কোথাও ৩০০ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে তৈরি হওয়া এই সমস্যা বর্তমানে নেই বলে দাম কমে যাওয়ার কথা পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানালেও বাড়তি দাম রেখে ঠকবাজীর ব্যবসা করছে খুচরা বিক্রেতারা। তবে তাদের দাবী তরকারীর কম আমদানীতে বেড়ে যাওয়া দাম এখনও কমেনি। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বিক্রিও করছেন বেশী মূল্যে। অন্যদিকে ঈদের পর পর বাজারে কাঁচা তরকারির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াতে অধিক মূল্য দিয়ে নাজেহাল হলেও বাধ্য হয়ে তা কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। নগরীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে ও ভ্রাম্যমান কাঁচা তরকারী বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ঈদের আগ থেকে দাম বেড়েছে সব ধরনের শাক সবজির। বর্তমানে বাঁধাকপি (প্রতি কেজি) ৩০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, সিম ১৩০-১৫০ টাকা, প্রকারভেদে বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ৩০-৪০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কচুর মূখী ৩০ টাকা, লাউ প্রকার ভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, মিস্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পেপে ২৫ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা কলা ২৫, ঝিঙা ৪০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, দুন্দল ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্য ঈদের ১০-১৫ দিন আগের মূল্যের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি। পাইকারি বাজারে সবজির অভাব থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানায় খুচরা ও ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা। পাইকারী বাজারে দাম কমছে পাইকারদের এমন দাবীর সাথে দ্বিমত খুচরা বিক্রেতাদের।

অন্যদিকে বহুমুখী পাইকারী কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহআলম এর সাথে একই সবজির পাইকারী মূল্য কেজি প্রতি জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে পাইকারি মূল্যে বাধাকপি (প্রতি কেজি) ১০-১৫ টাকা, ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকা, সিম ৮০ টাকা, কালো বেগুন ৪০ টাকা এবং সাদা ৩০-৪০ টাকা, পটল ২২-২৫ টাকা, মরিচ ১৫০-১৮০ টাকা, কচুর মূখী ১০-১২ টাকা, লাউ ১৫-২০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, মিস্টি কুমরা ২০ টাকা, পেপে ২০ টাকা, কাকরোল ২৫ টাকা, জালি কুমড়া ১৫-২০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, লেবু হালি ১০-১৫ টাকা, শসা ১৮-২০ টাকা, কাঁচা কলা ১২, ঝিঙা ২৫ টাকা, গাজর ৭০ টাকা, দুন্দল ১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য সবজির দামও গত দু’একদিনে কমেছে। ঈদের ব্যস্ততায় নগরীতে যেসকল স্থান থেকে সবজি আমদানি করা হয় যেমন- যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙা, ঈশ্বরদী ইত্যাদি জায়গা থেকে যানবাহনের অভাবে সবজি আমদানি করা সম্ভব হয়নি। চাহিদা পূরণে যা আনা হয়েছে তার জন্য দিতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। এজন্যই সবজি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে ঈদের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মূল্য কমে গেছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়তি রাখছে। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।