ঝালকাঠির সাবেক পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত সুপারের বিরুদ্ধে এসআই স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের হয়রানী, জীবন নাশের হুমকি ও রেশন সহ বেতন-ভাতার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) স্ত্রী। গতকাল সোমবার নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে বিএনডিএন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এসআই মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাজমা সুলতানা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানান, স্বামী এসআই মো. আনোয়ার হোসেন ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত ঝালকাঠি সদর থানায় কর্মরত ছিল। বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধে দেশের স্বার্থে পুলিশের দায়িত্ব পালনে ৯০ ভাগ গ্রেফতার অভিযানের নেতৃত্ব দেয় স্বামী। ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার মজিদ আলী এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিদুল ইসলামের নির্দেশে গ্রেপ্তার করার পর তারা আবার বিএনপি-জামায়াত প্রীতিতে উৎকোচের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দেয়। এমনকি গ্রেপ্তারকৃতদের জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেতে সুযোগ করে দেয়। পরে তাদের মাধ্যমে স্বামী এসআই আনোয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার অভিযোগ দেয়ায়। সেই অভিযোগের এসপি এবং অতিরিক্ত এসপি স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিদুল ইসলামের সাথে ঝালকাঠির চাঁদকাঠী এলাকার মানিক মিয়ার মেয়ে নয়নের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই অবৈধ সম্পর্কে বাধা দেয় স্থানীয় বিএনপি কর্মী রাশেদ মুন্সি। এতে ক্ষিপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিদুল চিরকুটে লিখে স্বামী এসআই আনোয়ারকে বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। এসব ছাড়াও আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এসব কারনে এসআই আনোয়ার হোসেন বরিশাল রেঞ্জের যে কোন থানায় বদলি হওয়ার জন্য ডিআইজির কাছে আবেদন করে। কিন্তু এই ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আনোয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুড়িগ্রাম জেলার ঢুষমারা থানায় বদলি করে। এমনকি এই দুই কর্মকর্তার যোগ সাজসে তার বিরুদ্ধে পুলিশ হেড কোয়াটার্সে গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি জামায়াত নেতা-কর্মীদের ছেড়ে দেয়া এবং তাদের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এ কারনে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিযোগের প্রমান পায়নি।
নাজমা সুলতানা বলেন, অযথা হয়রানি করায় পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ২০১৪ সনের ৯ জুন মহা পরিদর্শকের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওই বছরের ১৭ জুন তাকে ডেকে নিয়ে রংপুর রেঞ্জে তার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) নিজ বাড়ির পাশের থানায় বদলি করে। সেখানে তার সন্ত্রাসী ভাগ্নে দিয়ে এসআই আনোয়ারকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।
এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হয়েও তার উপর অন্যায় অবিচার করা হচ্ছে। তাকে অন্যায় ভাবে রংপুর রেঞ্জে বদলি করায় দুটি সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এমনকি ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে তাকে বেতন, ভাতা এবং রেশন না দেয়ায় সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাবন করতে হচ্ছে। তার মধ্যে আবার বর্তমান পুলিশ সুপারের ভয়ে ঝালকাঠি জেলা ছেড়ে পালিয়ে নগরীতে আশ্রয় নিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তাই তার স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু তদন্ত এবং সুবিচার দাবী করেন এই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী নাজমা সুলতানা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দুই সন্তানের জননী নাজমা সুলতানা। তিনি অশ্রু ভেজা চোখে লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষ করেন।