ঝালকাঠির জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার ভূয়া মহিলা সমিতির নামে অনুদান লুট

ঝালকাঠি প্রতিবেদক ॥ ঝালকাঠিতে নারীদের স্বচ্ছল করতে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুদানের বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এরপূর্বেও তার বিরুদ্ধে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। প্রাক্তন জেলা প্রশাসক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন তার দুর্নীতির এবং অনিয়মের কথা জেনে তাকে ঝালকাঠি থেকে অন্যত্র বদলী হবার পরামর্শ দেন। কিš ‘সাবেক জেলা প্রশাসকের বদলী দুর্নীতি পরায়ন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন সৌভাগ্য হিসেবে দেখা দেয়। বহাল তবিয়তে থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা জাকির হোসেন।
ঝালকাঠি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন কয়েকজন দুঃস্থ সাধারন জনগণ। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন মহিলাদের কর্মস্থল ও স্বচ্ছল করতে বর্তমান সরকার বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে স্বাবলম্বি করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। সরকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তাগুলো উপকার প্রাপ্যদের দ্বোরগোড়ায় পৌছে দিতে চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছু কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতি, খামখেয়ালীপনা এবং স্বেচ্ছাচারীতার কারণে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড ভেস্তে যাচ্ছে। সম্প্রতি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দুঃস্থ মহিলা কল্যাণ সমিতির নামে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদানে জালিয়াতি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ সনে ঝালকাঠি জেলায় বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদ ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ দেন। জেলার ৪ উপজেলায় ৩৪ টি সমিতির নামে সাধারন অনুদান বাবদ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সদর উপজেলার বিশেষ বরাদ্দ বাবদ ২টি সমিতির নামে ৭০ হাজার টাকা এবং নলছিটি উপজেলার ২টি স্বেচ্ছাধীন সমিতির নামে ২০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় তালিকার অধিকাংশ সমিতিই ভুয়া। নিবন্ধনকৃত এসব সমিতির কাগজপত্রে নাম কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে কিছুই নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে বিশেষ অনুদানের ৩৫ হাজার টাকা প্রাপ্ত বৈদারাপুর দুস্থঃ যুব ও মহিলা কল্যাণ সংস্থার কার্যালয়টি এক ঘণ্টা ঘুরেও এলাকায় কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে বৈদাপুর এলাকার মুদি দোকানদার ফজলুল হক জানান, এখানে এই নামে কোন সমিতি বা সাইন বোর্ড আছে বলে আমি দেখি নাই। একই এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ আল মামুনের কাছে এই সংস্থার অফিস বা কার্যক্রম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরনের ভুয়া সংস্থা সমিতির নামে আসা সরকারী অনুদানের টাকা নিয়ে যে দুর্নীতি এ বিষয়ে আমি জানি না। জানলে অবশ্যই সোচ্চার হতাম। আমার এলাকায় এ ধরনের সংস্থার কার্যক্রম চলে এটা আপনাদের কাছেই প্রথম শুনলাম।
গ্রামীণ মহিলাদের স্বচ্ছল ও স্বনির্ভর করতে সরকারের বরাদ্দ এই অনুদান কাদের কিভাবে দেয়া হচ্ছে, নারীরা এ থেকে কি ভাবে উপকৃত হচ্ছে এইসব অনুদান যাচাই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সত্যতা যাচাই করেন কিনা এবং সমিতি নির্বাচনে মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয় কিনা জানতে চাইলে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তিনি এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করা হলে দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করুন। ঝালকাঠি ডেভলপমেন্ট সোসাইটির পরিচালক এবং ফেডারেশন অফ এনজিওস ইন বাংলাদেশ এর জেলা সভাপতি শাহ্আলম খলিফা বলেন, জেলার মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের নামে প্রতি বছর বরাদ্দ প্রাপ্ত এইসব অনুদান প্রকৃত সংগঠনকে না দিয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকির হোসেন ভুয়া তলিকার মাধ্যমে লুটপাট করে খাচ্ছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা তদন্ত করা হচ্ছে না। তাই তাকে ঝালকাঠি থেকে সরিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।