ঝালকাঠিতে মাদ্রাসার ছাত্র ও ব্যবসায়ী সংঘর্ষে পর নিখোঁজ ৫

ঝালকাঠি প্রতিবেদক॥ ঝালকাঠির নেসারাবাদ এনএস কামিল মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে ছাত্রসহ কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মাদ্রাসায় অনার্স পড়–য়া আবু সালেহ, নাজমুল,  ৯ম শ্রেণির ছাত্র ওমর, ৮ম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল হাসান, আহসানুল্লাহ, জালিস, রাফি, আক্তারুজ্জামান, হাসিবুর রহমান, ৭ম শ্রেণির ছাত্র মোঃ আল-আমিন, আওলাদ, জহিরুল ও ৫ম শ্রেণির ছাত্র বাদল মিয়া ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া আলিম ২য় বর্ষের ছাত্র মেছবাহ উদ্দিন, ৯ম শ্রেণির ছাত্র মারুফুর রহমান, ৭ম শ্রেণির ছাত্র নাজমুল করিম, হারুন শেখ, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ফয়সাল নিখোঁজ রয়েছে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। সংঘর্ষের সময় ২০টিরও বেশি দোকানে ভাঙচুর চালায় ছাত্ররা। বিকাশের টাকা লেনদেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদ্রাসা এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বজলুর রহমান জানান, সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসার আলিম প্রথম বষের ছাত্র মোঃ মাহিম মোবাইলের দোকানদার রুহুল আমিনের বিকাশের নম্বর থেকে না বলে দুই হাজার টাকা তার মোবাইলে সেন্ড মানি করে। এ সময় দোকানদার রুহুল আমিন বিষয়টি মাহিমকে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে সে অস্বীকার করে। পরে চাপ দিলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। এ ঘটনায় দোকানের সামনে জড়ো হওয়া লোকজন মাহিমকে মারধর করতে চাইলে রুহুল আমিন তাদের বাঁধা দেয়। আর বিষয়টি মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এর পরে মো. মাহিমকে মারধর করেছে এমন অভিযোগ এনে রাত ১০ টার দিকে মাদ্রাসার প্রায় অর্ধশত ছাত্র প্রথমে রুহুল আমিনের দোকান ভাঙচুর করে। পরে ওই বাজারের কমপক্ষে ২০টি দোকান ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। তবে মাদ্রাসার শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে মাদ্রাসার ওই ছাত্রকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। যার ফলে অন্য ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকান ভাঙচুর করেছে। অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য ছাত্রদের ক্যাম্পাস থেকে বাহিরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল রাকিব বলেন,  এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, সংঘর্ষ সম্পর্কে মাদ্রাসার আমীরুল মুছলিহীন অধ্যক্ষ মাওঃ খলিলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর বলেন, এখানে যারা ব্যবসা পরিচালনা করে তাঁদের অধিকাংশই আমার ছাত্র। ছাত্র ছাড়া যে সকল ব্যবসায়ীরা রয়েছেন তাদের ক্রেতারা আমার ছাত্র। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে ছাত্রদের যেমন দেখাশুনা করা আমার দায়িত্ব, তেমন প্রতিবেশী হিসেবে ব্যবসায়ীদেরকেও দেখাশুনা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মোঃ মজিদ আলী দুপুরে মাদ্রাসার সামনের ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পরিদর্শনে গেলে ব্যবসায়ী এবং মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত হলে নেছারাবাদী হুজুর একথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, যে ছাত্রের কারণে সামান্য ঘটনা থেকে সংঘর্ষের সুত্রপাত ঘটেছে সে ছাত্রকে বহিস্কারের ব্যবস্থা এবং যে শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ পর্যন্ত ঘটনা ঘটেছে তাকে শো-কজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানঠি শুধু ঝালকাঠির নয়, দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কঠোর রাখতে হবে।
অপরদিকে,  সংঘর্ষের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করে তারা। এসময় স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিত্ব আঃ আজিজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী রুবেল হাওলাদার, আঃ হক, তৈয়ব আলী, পলাশ হাওলাদার প্রমুখ। ৭ দিনের মধ্যে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে ব্যবস্থা না নিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচীর আল্টিমেটাম দেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারী-পুরুষসহ বিপুল সংখ্যক মানববন্ধনে অংশ নেয়।