ঝালকাঠিতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় যুবলীগ সভাপতিসহ আহত ৫

ঝালকাঠি প্রতিবেদক॥ ঝালকাঠি পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ প্রণব কুমার নাথ ভানুকে গুম চেষ্টার অভিযোগে থানায় জিডি দায়েরের পর প্যানেল মেয়র-২ রেজাউল করিম জাকির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি লাভলুসহ ৩ জন আহত হয় এবং সংঘর্ষে ভাঙচুরকৃত ৩ টি মোটর সাইকেল সদর থানা পুলিশ আটক করেছে। গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৩ টায় শহরের পোস্ট অফিস রোড ও সাধনার চৌমাথায় এ ঘটনা ঘটেছে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রণব কুমার নাথ ভানু বলেন, সকালে একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হয়ে ওয়াহাব গাজী শিশু বিদ্যালয়ের সামনে আসলে ফারছু খান, রুবেল খান, রাসেল, রাব্বানী, জুয়েল, মাসুম, আলিমসহ ১৫/২০ জন পথ রোধ করে অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং-১৭৭) করে যুবলীগ নেতা হাফিজের মোটর সাইকেলে বাসায় যাই। যুবলীগ নেতা হাফিজ জানান, প্যানেল মেয়র প্রণব কুমার নাথ ভানু জিডি দায়েরের পর তাকে বাসায় দিয়ে ফেরার সময় পোস্ট অফিস রোডে এলে পিছন থেকে ধর ধর বলে আওয়াজ দেয়। আমরা দাঁড়ালে রড ও লাঠি নিয়ে কয়েকজন আমাদের ধাওয়া দেয়। আমরা তাঁদের প্রতিহত করলে তারা ৩ টি মোটর সাইকেল রেখে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মামুন হোসেন লাভু, যুবলীগ নেতা বাহাদুর ও তৌহিদ হোসেন আহত হয়। আহতদের মধ্যে যুবলীগ সভাপতি লাভু ও তৌহিদ হোসেন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংঘর্ষে প্যানেল মেয়র-২ রেজাউল করিম জাকিরের নিকটাত্মীয় মোস্তাফিজুর রহমান শুভ’র মোটর সাইকেলসহ ৩ মোটর সাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সদর থানা পুলিশ পোস্ট অফিস রোডের ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেল ৩ টি আটক করেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে প্যানেল মেয়র-১ প্রণব কুমার নাথ ভানুর সমর্থকরা পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকায় এবং প্যানেল মেয়র-২ রেজাউল করিম জাকির সমর্থকরা সদর উপজেলা পরিষদ রোডে অবস্থান নেয়। শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফম আনোয়ার হোসেন বলেন, দু’কাউন্সিলরের সমর্থকরা উত্তেজিত হলে লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। । বিকালে জেলা যুবলীগ নেতা হাফিজ তার শতাধিক সমর্থক নিয়ে হাসপাতালে তার সমর্থক আহতদের দেখতে গেলে সেখানে ইন্ডিপেন্ডট টেলিভিশন ও মাইটিভি জেলা প্রতিনিধিদের উপর হামলা ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় হাফিজের সদস্য ।এক সংবাদ কর্মী ক্যামেরার ম্যামোরি কার্ড’র ছবি মুছে ফেলে বলে ঐ নির্যাতিত সাংবাদিকরা জানান । অন্য সংবাদিকদের হস্তক্ষেপে ক্যামেরা ফিরিয়ে দেয়। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন সহ টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরেজমিন থানার ওসি শিলমনি চাকমার সাথে আলাপকালে জানায়, প্যানেল মেয়র ভানুকে অপহরণের চেষ্টার খবর পেয়ে তিনি বাসস্টান্ডে পেট্রোল পাম্প এলাকায় ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছেন। যুবলীগের দু’গ্রুপ শান্ত ও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।