জোড়াতালির বাসে চলছে বিআরটিসির সেবা

ওয়াহিদ রাসেল ॥ পুরনো ও নষ্ট গাড়ি দিয়েই চলছে বরিশাল বিআরটিসি ডিপো। বরিশালের বিআরটিসি ডিপোতে নতুন কোন গাড়ি সংযোজন না হওয়ায় পুরনো গাড়ি দিয়েই চলছে যাত্রীসেবা। যার ফলে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে যাত্রীরা। পুরনো হওয়ার কারনে দূর পাল্লার ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো পথিমধ্যে প্রায়ই নষ্ট হয়ে থাকে। আর এই নষ্ট হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌছানো সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিআরটিসি ডিপো সূত্রে জানাগেছে এই ডিপোতে ৪০টি গাড়ি আছে। যার মধ্যে ৩৭টি গাড়ি বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। অবশিষ্ট ৩টি গাড়ি বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। আরও জানাগেছে, এই ৪০টি গাড়ির মধ্যে ১২টি এসি গাড়ি রয়েছে এবং এই এসি গাড়িগুলো বাদে অন্য ২৮টি গাড়ি দীর্ঘদিনের পুরানো। বরিশাল ডিপো থেকে ১৮টি রুটে গাড়ি চলাচল করে। এই ১৮টি রুটের মধ্যে ঢাকা ও রংপুর ছাড়া অন্যান্য সব রুটে সেই পুরানো গাড়ি দিয়ে যাত্রীসেবা দেয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি এসি গাড়িই বরিশাল থেকে কাওরান্দি যায় এবং অন্য এসি গাড়ি ২টি যায় রংপুর। বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর অন্যান্য রুটগুলো হলো বরিশাল থেকে চাপাই নবাবগঞ্জ, যশোর, চরফ্যাশন, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, বেনাপোল, আমুয়া, গোপালগঞ্জ-খুলনা, গোপালগঞ্জ-খুলনা-পাথরঘাটা, পাথরঘাটা-খুলনা, বরগুনা, ঝালকাঠি, কুয়াকাটা। কাওরাকান্দি ও রংপুর ছাড়া অন্য রুটগুলোর মধ্যে চাপাই নবাবগঞ্জ, যশোর, চরফ্যাশন, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, বেনাপোল, আমুয়া, কুয়াকাটা, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ-খুলনা-পাথরঘাটা, পাথরঘাটা-খুলনা রুটে ২টি করে এবং পাথরঘাটা ও বরগুনার ৩টি রুটে ১টি করে গাড়ি চলাচল করে। এই রুট গুলোর মধ্যে কাওরাকান্দি যাত্রী প্রতি ভাড়া ২৫০, রংপুর ৮০০, চাপাইনবাবগঞ্জ ৫০০, যশোর ৪০০, মুন্সিগঞ্জ ৩০০, খুলনা ২০০, আমুয়া ৮০, কুয়াকাটা ৩০০, ঝালকাঠি ১৬০, গোপালগঞ্জ খুলনা ৩০০, পাথরঘাটা-খুলনা ৩০০, পাথরঘাটা ১৫০, বরগুনা ১৫০ টাকা করে ভাড়া নেয়া হয়। এছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি গাড়ি ছাত্রছাত্রী বহনের জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে এবং গাড়ি ২টি শুক্র, শনি বন্ধের দিনে দুমকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্যও ভাড়া দেয়া হয়। এছাড়াও ডিপোতে ৮টি গাড়ি বিকল অবস্থায় রয়েছে। যা মেরামত করা সম্ভব নয়। পুরানো গাড়ির কারনে ভোগান্তি ও দুর্ভোগের স্বীকার হওয়া একাধিক যাত্রীরা জানায়, তারা শান্তিপূর্ন যাত্রার জন্য সরকারি গাড়িতে ভ্রমন করে। কিন্তু প্রায়ই পথিমধ্যে গাড়ি নষ্ট হয়ে দুর্ভোগের স্বীকা হতে হয় তাদের। এছাড়াও গাড়ির কাউন্টার ছাড়াও পথিমধ্যে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো সহ বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির স্বীকার হয় যাত্রীরা। অপরদিকে এসিমুক্ত গাড়িগুলোতে প্রায়ই এসি বন্ধ রেখে পরিচালনা কারনে যাত্রীরা হয়রানির স্বীকার হয়। এ বিষয়ে বরিশাল ডিপোর ব্যবস্থাপক নিহার রঞ্জন মজুমদার জানান, উপরগত কিছু বাধ্যবাধকতার কারনে পুরানো গাড়িগুলো সঠিকভাবে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বারবার এ বিষয়ে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, পুরনো গাড়ির কারনেই এই সমস্যাগুলো বেশি হয়। তবে পথিমধ্যে যাত্রী উঠানো ও এসি বন্ধ রাখার ব্যাপার তিনি অস্বীকার করেন। এ সময় তার কাছে গাড়ির প্রয়োজনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি আরও জানান, গাড়ি পুরনো হওয়া ছাড়া এমনিতে গাড়ির কোন সমস্যা নেই। তবে যদি চলাচলের জন্য রুট বাড়ানো হয় তাহলে আরও গাড়ির প্রয়োজন হবে। রুট বাড়ানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় ব্যবস্থাপক নিহার রঞ্জন মজুমদার উল্লেখ করেন, তারা রুট বাড়াতে চাইলেও বাস মালিক সমিতির কারনে তা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে বাউফলের রুট বাড়িয়ে একটি গাড়ি দেয়া হলেও বাস মালিক সমিতির প্রভাবে তা বন্ধ করে দিতে হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ওই রুটে বিআরটিসির গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও বাস মালিক সমিতির কারনে তাদের নানারুপ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই সমস্যাগুলো যদি অবসান করা যায় তাহলে রুট বাড়ানো সহ গাড়িও বাড়ানো হবে।