জেল খাল উদ্ধারে হার্ড লাইনে জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল নগরীর জেলখাল উদ্ধারে হার্ড লাইনে রয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান। গতকাল মঙ্গলবার ৪ টি অবৈধ ভবন ও ১৫ টির অধিক আধপাকা ও অস্থায়ীভাবে নির্মিত স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছে তার নেতৃত্বে পরিচালিত জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় জেলখালের নগরীর নথুল্লাবাদ প্রান্তের অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা বুল ড্রেজার দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার ঠিক ২৪ ঘন্টা পর মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর জেলখালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অংশ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। এসময় খালের জমি দখল করে নির্মিত একটি দ্বিতল ভবনসহ বেশ কয়েকটি পাকা, আধাপাকা এবং কাঁচা ভবন উচ্ছেদ করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হোসাইনিয়া মাদরাসা সংলগ্ন কার্লভাটের উত্তর পার্শ্বে খালের জমি দখল করে একটি দোতালা ভবন বুলড্রেজার দিয়ে পুরোপুরি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। খালের পাড়ে রাত্রিকালীন কাঁচাবাজারের জন্য নির্মিত অস্থায়ী ঘরগুলোও উচ্ছেদ করা হয়। কালভার্ট সংলগ্ন প্রায় ১০টি পাকা ভবনের পেছনের অংশ, যা খালের জমি দখল করে নির্মিত হয়েছে সেগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। উচ্ছেদ চলাকালে দুর্ঘটনা এড়াতে বাস টার্মিনাল থেকে বিএম কলেজমুখী সড়কে যানবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কল্যাণ চৌধুরীর তত্ত্বাবধায়নে সিটি করপোরেশণের দুটি বুলড্রেজারসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে উপস্থিত ছিল আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কল্যান চৌধুরী আরও জানান, জেলখালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অংশে অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যেগে অপসারণ করার জন্য ২৪ ঘন্টার সময় দিয়ে সোমবার সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কেউ স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে ২৪ ঘন্টা সময় অতিক্রম করার পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। আজ বুধবারও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। উল্লেখ্য, নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহমান জেলখাল দখলমুক্ত করতে গত ২৬ এপ্রিল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছেন জেলা প্রশাসক। ওই জেলখালের উৎসস্থল কীর্তনখোলা নদীর মুখে ফরিয়াপট্টি এলাকা (চালের মোকাম) থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহসান হাবিব, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইলিয়াসুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কল্যান চৌধুরী, নাহিদুল করিম, সুখময় সরকার সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।