জেলে ও ট্রলারের নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের কাছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দীর্ঘদিনের প্রাপ্তির খরা কাটিয়ে সাগরে বর্তমানে ইলিশ মাছের দেখা মিললেও জলদস্যুর কারনে আহরন সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি। ইলিশ শিকারে যাওয়া বহু জেলে অপহৃত হয়েছে। প্রশাসনের  সাথে যোগাযোগ করে কোন সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
তাই সমিতির  সভাপতি ইসরাইল পন্ডিল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ চন্দ্র বর্মন ইলিশ আহরনের জেলে ও ট্রলারের নিরাপত্তার জোরদার করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের কাছে আবেদন করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার দেয়া আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন,  দীর্ঘদিন ধরে নদী ও সাগরে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়নি। এর সাথে  বন্যা ও জলোচ্ছাসে নদী ও সাগরের গিয়ে জেলেরা মাছ শিকার করতে পারেনি। বর্তমানে কিছু মাছের দেখা দিলেও জেলেরা জলদস্যুদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় আহরণ করতে পারছে না। বরগুনার তালতলী উপজেলা, পাথরঘাটা, পটুয়াখালী, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, ভোলা জেলার দৌলতখান, মনপুরা, চরফ্যাশন, নোয়াখালী জেলার দ. হাতিয়া, সুবর্ণচর, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমল নগর, বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা উপজেলার অনেক মাঝিদের জলদুস্যরা অপহরণ করে মুক্তিপন হিসেবে ২ লক্ষ/৩ লক্ষ টাকা নিয়ে মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপনের টাকা দিতে মাঝিরা ও বোট মালিক ভিটা বাড়ি বিক্রি করেছে। এখনো অনেক মাঝি দস্যুদের হতে জিম্মি রয়েছে। সম্প্রতি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি, কলাপাড়া, বরগুনা, তালতলী, বরগুনা সদরের শতাধিক মাঝি অপহৃত হয়েছে। থানা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে কোনো কিনারা করা যাইনি।  কোস্টাল এলাকার মৎস্য পেশায় নিয়োজিত ১০ লক্ষ পেশাজীবী দস্যুদের হাতে জিম্মি।
জলদস্যুদের কারনে জেলেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আর কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ইলিশ ব্যবসায়ীরা।